‘দেশে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের উপযোগী মেধাবী, দক্ষ ও নৈতিকতাসম্পন্ন আইনজীবী গড়ে তুলতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান একথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আইন পেশায় সফল হতে আইনের জ্ঞানের পাশাপাশি অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন এবং নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করা প্রয়োজন।
আজ ১৩ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘AGO–UNDP Internship Programme’-এর দ্বিতীয় ব্যাচের সমাপনী এবং তৃতীয় ব্যাচের ইন্টার্নদের বরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘Convocation & Orientation’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করা মেধাবী তরুণদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর অন্তত ১০০ জন ইন্টার্নের মাধ্যমে পাঁচ বছরে ৫০০ জনকে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আইন পেশায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে আইনজীবীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। এ জন্য বিশ্লেষণী চিন্তা, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কার্যকরভাবে কাজ করার সক্ষমতা অর্জন জরুরি।
আইন প্রণয়ন ও সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী মানবাধিকার কমিশন আইন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন এবং সাইবার আইন সংশোধনসহ বিভিন্ন বিষয়ে চলমান কাজের কথা তুলে ধরেন। এসব আইনের খসড়া প্রণয়ন ও পর্যালোচনায় তরুণ আইনজীবীদের মেধা, জ্ঞান ও সৃজনশীলতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মোঃ আসাদুজ্জামান আরো বলেন, পেশাগত সাফল্যের সঙ্গে সততা, জবাবদিহি ও নৈতিকতার সমন্বয় অপরিহার্য। মক্কেলের সাথে প্রতারণা, অর্থের প্রতি অতিরিক্ত লোভ কিংবা বিচারপ্রক্রিয়াকে অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা আইন পেশার মর্যাদার পরিপন্থী। এ ক্ষেত্রে আইনজীবীদের পেশাগত আচরণবিধির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আইনমন্ত্রী আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনজীবীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, একজন দক্ষ আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি মানবিক ও নীতিবান মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা এবং জাতি গঠনে অবদান রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের এ ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দক্ষ, মানবিক ও নৈতিকতাসম্পন্ন আইনজীবী গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। এ উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য তিনি ইউএনডিপি, বাংলাদেশ এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়কে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোঃ রুহুল কুদ্দুস কাজলের সভাপতিত্বে এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তাসনোভা শেলির সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি stephen Rodriques, বাংলাদেশে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত Nicolas Weeks, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জাহরাত আদিব চৌধুরী, ইউএনডিপি বাংলাদেশের রুল অব ল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস প্রোগ্রামের সিনিয়র অ্যাডভাইজার Romana Schweiger ও অ্যানালিস্ট Jinbo choi- সহ অন্যরা।




