ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়‘আমার নাতনিটা কোথায়?’ নিখোঁজ শিশুদের খোঁজে পাগলপ্রায় স্বজন

‘আমার নাতনিটা কোথায়?’ নিখোঁজ শিশুদের খোঁজে পাগলপ্রায় স্বজন

প্রশিক্ষণ বিমানের আগুন নিভে গেল, ধোঁয়া সরে গেল আকাশ থেকে, কিন্তু মাইলস্টোন স্কুলের সামনে এখনো থমকে আছে সময়। হাসপাতালের বারান্দা, বার্ন ইউনিটের গেট কিংবা অ্যাম্বুলেন্সের ছায়ায় এখনো একটাই আর্তনাদ ‘আমার সন্তানটা কোথায়?’

তৃতীয় শ্রেণির ছোট ছোট তিনটি মুখ, যাদের প্রতিদিনের জীবনে ছিল খেলা, পড়াশোনা আর স্বপ্ন- সেই ওয়াকিয়া আহমেদ নিধি, আফিয়া উম্মে সায়মা, আর শামীমা। আজ তারা নিখোঁজ। হাসপাতালের পর হাসপাতাল, বার্ন ইউনিট থেকে মর্গ- স্বজনেরা খুঁজছেন, খুঁজেই চলেছেন।

নিধির বাবা ফারুক হোসেন আর ভাই আসাদ এখন পাগলপ্রায়। উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে কথা হয় তাদের সাথে। এই প্রতিবেদককে কাঁপা কাঁপা স্বরে বলেন, ‘ও তো স্কুলে গিয়েছিল, ফিরে আসেনি…কেউ কিছু জানে না। হাসপাতাল ঘুরছি, কেউ কিছু বলতে পারছে না। খোঁজে পাগল হয়ে গেছি।’

নিধির বড়ভাই আসাদ বলেন, ‘আমরা দুপুর থেকে খুঁজছি তাকে। খবর পেয়েছিলাম উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজে ভর্তি আছেন কিন্তু সব রোগী খুঁজে আমার বোনকে পাইনি। তিনি আরও বলেন, আমার পরিবারের অন্য সদস্যরা বার্ন ইনস্টিটিউটে খুঁজছেন। আমি আমার বোনের খোঁজ চাই।’

শামীমার আর কেউ নাই
শামীমা নামে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীটির মা নেই, নেই বাবাও। ছোট্ট মেয়েটির পুরো পৃথিবী ছিল একজন—তার দাদা হারুন। ঘটনার পর হাসপাতালে এসে এক কোণে বসে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বললেন, “মা-বাবা হারা নাতনিটা আমার…আমি ছাড়া কেউ নাই তার। দুপুরে খাবার দিয়ে বলছিলাম—‘দাদা, টিফিনে খেয়ে নিও।’… ও এখন কোথায় গেল?” প্রবীণ মানুষটি আর কথা বলতে পারেন না। শুধু দুই হাতে মুখ ঢেকে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন।

সায়মার খোঁজেও দিশেহারা পরিবার
আফিয়া উম্মে সায়মার খোঁজ মেলেনি এখনো। তার খালাতো বোন মুন্নী আর মুক্তি বলেন, ‘আমাদের আদরের বোনটাকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। সায়মার বই, খাতা সব পড়ে আছে ক্লাসে…কিন্তু ওকে কেউ দেখেনি। কেউ জানে না কোথায় গেল। বার্ন ইউনিটেও খোঁজ করেছি, এখানে নেই…মর্গেও খুঁজেছি।’

মুন্নী জানান, তাদের পরিবার পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। সায়মা ছিল পরিবারের একমাত্র শিশু—তার অনুপস্থিতিতে যেন সময় থেমে গেছে। এদিকে সন্তানকে আনতে গিয়ে মা লামিয়া আক্তারকেও খুঁজে পাচ্ছেন না স্বজনরা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular