জালাল উদ্দিন মন্ডল নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ময়মনসিংহের নান্দাইলে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নিহত যুবক আলমামুনের পরিবার। ছেলের লাশকে একবারের জন্য দেখার আকুতি জানিয়েছেন বিধবা মা রোকেয়া আক্তার ও তাঁর স্ত্রী মহিমা আক্তার। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে রাশিয়া থেকে আল মামুনের এক সহকর্মীর একটি ফোন কল আসে স্ত্রী মহিমা আক্তারের নিকট। ওই বার্তায় জানা যায়, আল মামুন চলতি ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধে মারা গেছে। এর পরপরই বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। তবে নিহতের লাশ দেখতে পাইনি স্বজনরা।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানাগেছে, আল মামুন নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া গ্রামের মৃত আবু কাসেমের পুত্র। এলাকায় সে ইলেক্ট্রিক কাজ করে পরিবারের সংসার চালাতো। প্রায় ৮ মাস আগে স্থানীয় এক ব্যাক্তির সহযোগিতায় ব্যাংক ঋণ ও সুদের টাকায় কোম্পানীর চাকুরী করার কথা বলে রাশিয়ায় পাড়ি জমায় সে। কয়েকদিন আগে পরিবারের লোকজন জানতে পারে সেখানে যুদ্ধের এলাকায় তাকে রাখা হয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবারের বার্তায় যুদ্ধের নিহত হওয়ার খবর শুনে পরিবারের লোকজন ভেঙ্গে পড়ে। স্বজন হারানোর কান্নায় এলাকায় শোকের মাতম।
এ বিষয়ে আল মামুনের মা রোকেয়া আক্তার কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘তোমারা আবার ছেলেকে এনে দাও, আমার একমাত্র সম্বল ছেলেকে ফেরত চাই’, এখন আমরা কি করবো বলে বার বার মুর্চ্ছা যান তিনি।
স্ত্রী মহিমা আক্তার জানান, আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রেখে বিদেশ গিয়েছিল টাকা উপার্জন করতে, এখন সবকিছুই শেষ হয়ে গেলো। তবে আমার স্বামীকে ফেরত চাই, তাকে একবারের জন্য হলেও দেখতে চাই। কিভাবে এ সংসার চালাবো নাকি বিদেশের যাওয়ার ঋণের টাকা পরিশোধ করবো?
স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন বাচ্চু জানান, ঘটনাটি শুনেছি। তবে মামুনের নিহতের লাশের ছবি বা ভিডিও কোন বার্তা পাইনি। ফোন কলের মাধ্যমে রাশিয়ায় অবস্থানরত এক লোক বলেছে, মামুন যুদ্ধে মারা গেছে। এতটুকুই জানি।
খারুয়া ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসনাত মিন্টু জানান, গতকাল মঙ্গলবার ঘটনাটি শুনেছি। মামুন খুব ভালো ছেলে ছিল। তাঁর মৃতুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।




