নিউজ ডেস্ক: ইউরোপের অবস্থা হয়েছে নিজের নাক কেটে পরের যাত্র ভঙ্গ করা! ইউরোপের প্রায় সব দেশে সংকট চলছে এবং এই সংকটের প্রধান কারণ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। যে যুদ্ধটি আমেরিকা প্রযোজিত কিন্তু তাদের কি কোন ক্ষতি হচ্ছে? তাদের পিঠে কি তা লেগেছে? লাগেনি, বরং তারা এখন থেকে মুনাফা করছে। যাকে বলে মার্কিন যুদ্ধ বাণিজ্য।
SIPRI এর তথ্যমতে ২০২০–২৪ সালের হিসাবে তাবৎ বিশ্বে অস্ত্র রপ্তানির ৪৩ ভাগই করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একাই। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের যুদ্ধ ব্যয়ের প্রকল্পের ২০২৫ সালের গবেষণা বলছে, ২০২০–২৪ সালে পেন্টাগনের কাছ থেকে সামরিক কোম্পানিগুলো ২ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের চুক্তি পেয়েছে! বুঝতে পারছেন কি বিপুল বাণিজ্য!
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধ শুধু ভূরাজনীতির বিষয় নয়, একটি বিশাল ব্যবসাও। যুদ্ধে মানুষ মরে, রাষ্ট্র ধ্বংস হয় আর অস্ত্র কারখানায় বাড়ে মুনাফা। আমেরিকা এই যুদ্ধে ইউরোপকে টেনে এনেছে, তারাও লাফাতে লাফাতে গিয়েছে। কারণ মনিব বলেছে। তাদের কি ক্ষতি হবে সে চিন্তা করেনি।
ইউরোপ প্রতিবেশি রাশিয়া থেকে সস্তায় ও সহজে পাইপে জ্বালানি পেতো। সড়ক ও নদীপথে সহজে গম, মাছ-মাংসো, সবজি যেতো। মার্কিন ও নিজেদের নিষেজ্ঞায় তা বন্ধ। তাদের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল রাশিয়াকে পরাজিত করতে পারলে তাদের সম্পদ ভাগাভাগি করে নেবে। আহারে হলো তার বিপরীত। এখন ইউরোপ জুড়েই সরকার বিরোধী জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন চলছে। অন্যের ঘরে আগুনে এখন নিজের ঘরেও জ্বলছে।
তারা অভিযোগ করছে পুতিন গোপনে পুরো ইউরোপকে অস্থিতিশীল করছে! অভিযোগ কতটা সত্য জানি না। তা আপনারা পুতিনের ঘরে আগুন দেবেন, তার দেশে দখল করতে যাবেন আর সে চুপ করে বসে থাকবে? ভূরাজনীতি তো শক্তি ও ক্ষমতার খেলা। পুতিন অনেকবারই বলেছেন, যে পৃথিবীতে রাশিয়া থাকবে না, সেই পৃথিবীর আমাদের কী প্রয়োজন?” (Why do we need a world if there is no Russia in it?) এটি তাঁর সর্বকালের অন্যতম ভয়ঙ্কর উক্তি ।



