ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeখেলাইন্দোনেশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনভেনশন এক্সপো ২০২৫, স্বর্ণপদক পেল বাংলাদেশ

ইন্দোনেশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনভেনশন এক্সপো ২০২৫, স্বর্ণপদক পেল বাংলাদেশ

ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত ইন্দোনেশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনভেনশন এক্সপো ২০২৫-এ স্বর্ণপদক জয় করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে বাংলাদেশি তরুণ উদ্ভাবক দল ‘অটোমর্ফ’। গত ৮-১১ আগস্ট আয়োজিত এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ২৭০টিরও বেশি দল অংশ নেয়। এই বিপুল সংখ্যক প্রতিযোগীর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করা বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গর্বের বিষয়। টিম অটোমর্ফের তৈরি ‘রক্ষ-বট’ নামের একটি রোবট এই প্রতিযোগিতায় বাস্তবসম্মত ও মানবকল্যাণে নিবেদিত প্রকল্প হিসেবে সবার নজর কাড়ে। এটি ‘রক্ষা’ শব্দের অনুকরণে তৈরি করা হয়েছে, যা সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

রোবটটি বিপজ্জনক পরিবেশে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, ঝুঁকি শনাক্ত ও সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। এর রোবটিক বাহু বিপজ্জনক বস্তু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং এর ড্রোন সিস্টেম মুহূর্তেই আকাশে উঠে চারপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

এতে নাইট ভিশন, সৌরশক্তি ও মাল্টিচ্যানেল যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়েছে। এই উদ্ভাবনী রোবটের মূল উদ্ভাবকরা হলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. ইযহার হোসেন এবং মিরাজাম মুনীর এবং ঢাকা ইম্পেরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী মো. ফাতিন নুর, লিয়ন ও রয়। তাদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মির্জা রাশেদুজ্জামান।

এই রোবটটি তৈরির উদ্দেশ্য সম্পর্কে দলের দলনেতা মো. ইযহার হোসেন বলেন, ‘আমরা রক্ষ-বটকে বিভিন্ন বিপজ্জনক পরিবেশে মানুষের সহচর হিসেবে কল্পনা করেছি, যেখানে মানুষের প্রবেশ ঝুঁকিপূর্ণ।’

এই গৌরবময় সাফল্যের পাশাপাশি দলটি মালয়েশিয়া ইনোভেশন ইনভেনশন ক্রিয়েটিভিটি অ্যাসোসিয়েশনের বিশেষ পুরস্কারও লাভ করে। দলের শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘ছোটবেলায় বাংলাদেশের যে পতাকা খাতায় আঁকতাম, আজ সেই পতাকা বিশ্বমঞ্চে উঁচু করে প্রদর্শন করতে পেরে আমরা গর্বিত।’ এই মন্তব্য তাদের দেশপ্রেম এবং অর্জনের গভীরতা প্রকাশ করে। উল্লেখ্য, টিম অটোমর্ফ এর আগেও আন্তর্জাতিক আইওটি অলিম্পিয়াডে রৌপ্য পদক জিতেছিল।

এবারের স্বর্ণপদক জয় আবারও প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশের উদ্ভাবকরা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি গড়ে তুলতে সক্ষম। এই সাফল্য দেশের তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গবেষণায় আরও উৎসাহিত করবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular