ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকইরানের পর ইউক্রেন-লেবাননে শান্তি ফেরাবো: ট্রাম্প

ইরানের পর ইউক্রেন-লেবাননে শান্তি ফেরাবো: ট্রাম্প

নিউজ ডেস্ক:   ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের প্রাথমিক চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর এবার ইউক্রেন ও লেবাননের চলমান সংঘাত বন্ধের ঘোষণা দিয়ে ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেইনস শহরে বিশ্বনেতাদের এই বার্ষিক সম্মেলনে ট্রাম্পের আগমন এমন এক সময়ে ঘটল যখন তার খামখেয়ালি ভূরাজনৈতিক আচরণের কারণে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ ও সতর্কতা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির কারণে বিশ্বনেতারা কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করলেও ফ্রান্সের ওপর নতুন মার্কিন শুল্ক আরোপের হুমকি এই পরিবেশকে কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন করে তুলেছে। এর পাশাপাশি ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ন্যাটো জোট ও সামরিক সহায়তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা, অভিবাসনের ঝুঁকি নিয়ে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া এবং রাজনৈতিক বিভাজন উস্কে দেওয়ার চেষ্টা জোটের মিত্রদের মধ্যে গভীর অস্বস্তি তৈরি করেছে।

সোমবার (১৫ জুন) ফ্রান্সে পৌঁছানোর পরপরই সম্মেলনের আয়োজক ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকে তিনি গত রবিবার ঘোষিত ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রশংসা করে বলেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবশেষে তার এই দীর্ঘদিনের শত্রুর সঙ্গে বৈরী সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি মধ্যপ্রাচ্যে এখন অনেক ভালো কিছু ঘটতে যাচ্ছে এবং সবচেয়ে বড় কথা আজ তেলের দাম দ্রুত কমছে এবং শেয়ার বাজার রকেটের মতো তরতর করে ওপরে উঠছে।’ তিনি আরও দাবি করেন যে ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত এই চুক্তিটি সমগ্র বিশ্বের জন্য অনেক বড় সাফল্য বয়ে নিয়ে আসবে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ উদ্যোগে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ পরিচালনার বিষয়ে জি-৭ জোটের কয়েকজন সদস্য দেশ আগে থেকেই ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করে আসছিল। বিশেষ করে যুদ্ধ শুরুর আগে কোনো ধরনের পরামর্শ না করায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে ট্রাম্পের এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। জবাবে ট্রাম্পও মার্কিন সামরিক অভিযানে অংশ না নেওয়ার জন্য ন্যাটো মিত্রদের অলসতার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।

নতুন এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান যাতে কৌশলগত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিটি পুনরায় সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়, তা নিশ্চিত করতে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং জার্মানি যৌথভাবে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ট্রাম্প ফরাসি প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন যে কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ ইতিমধ্যেই কোনো ধরনের শুল্ক বা টোল ছাড়াই এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত শুরু করে দিয়েছে।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমি মনে করি না আমাদের এখানে খুব বেশি সাহায্যের প্রয়োজন হবে’ কারণ হরমুজ প্রণালিটি পুরোপুরি উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। তবে তিনি ফরাসি নেতাকে আরও বলেন যে এই নৌপথে কয়েকটি দেশের একটি বা দুটি যুদ্ধজাহাজ থাকা কোনো খারাপ ধারণা নয় এবং ফ্রান্স এই কাজের জন্য একটি চমৎকার দেশ হতে পারে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular