ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের আপডেট

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের আপডেট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ওপর ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১,২৩০ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধের প্রথম দিনেই দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ১৭৫ জন স্কুলছাত্রী ও শিক্ষক নিহত হন।

অন্যদিকে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৯ জনসহ মোট ১০ জন ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) এখন পর্যন্ত তাদের কোনো সামরিক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানায়নি। অন্যদিকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে অন্তত ৭৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। এসব হামলায় কুয়েতে সেনাসহ মোট ৩ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেশটিতে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় ৬ মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড। তাছাড়া ইরাকে অন্তত ১৩ জন, সিরিয়ার ৪ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৩ জন, বাহরাইনে ১ জন ও ওমানে ১ জন নিহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ১৭: ৪৫টা
ফরাসি ঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান অবস্থানের অনুমতি ফ্রান্সের

ফ্রান্সের জয়েন্ট ডিফেন্স স্টাফের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফ্রান্স তাদের দেশের ‘নির্দিষ্ট কিছু ঘাঁটিতে’ মার্কিন যুদ্ধবিমানের সাময়িক অবস্থানের অনুমতি দিয়েছে। ইরান বিরোধী অভিযানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ফরাসি কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ফ্রান্স শর্ত দিয়েছে যে, যুদ্ধবিমান কোনোভাবেই ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিতে পারবে না। এগুলো শুধুমাত্র এই অঞ্চলে আমাদের মিত্রদের প্রতিরক্ষা সহায়তার কাজে ব্যবহৃত হবে।

বৃহস্পতিবার ১৭: ৪২টা
যুদ্ধে ন্যাটো সরাসরি জড়িত নয়, তবে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিচ্ছে

ন্যাটো মিত্ররা ইরান বিরোধী মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধে সরাসরি অংশ না নিলেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ‘সমর্থন’ দিয়ে যাচ্ছে বলে জানান ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় মিত্রদের সহায়তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ইরানের বিরুদ্ধে এই অভিযান চালানো অত্যন্ত কঠিন হতো। তিনি আরও বলেন, ইউরোপ ও আমেরিকার নেতাদের লক্ষ্য হলো একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অভিযানকে সহায়তা করা এবং ইউক্রেনকে শক্তিশালী রাখা।

বৃহস্পতিবার ১৭: ২৯টা
ইইউ দেশগুলোকে ‘মূল্য দিতে হবে’ বলে ইরানের হুঁশিয়ারি

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম টিভিই (TVE)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইরান বিরোধী মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো যদি নীরব থাকে, তবে ‘আজ হোক বা কাল’ তাদের এর চড়া মূল্য দিতে হবে।

এছাড়াও, তুরস্কের আকাশসীমায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার ঘটনার সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতা বাঘাই আবারও অস্বীকার করেছেন। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার ১৭: ২৬টা
আজাবাইজানে হামলার বিষয়টি ইরানের অস্বীকার

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি আজারবাইজানে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এর আগে আজারবাইজান দাবি করেছিল যে, ইরানের দুটি ড্রোন তাদের নাখচিভান অঞ্চলের একটি বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাত হেনেছে। ঘারিবাবাদি বলেন, ‘‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আজারবাইজান প্রজাতন্ত্রকে লক্ষ্যবস্তু করেনি। প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালানো আমাদের নীতি নয়।’’

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ইরানের নীতি হলো কেবল সেইসব শত্রু (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত করা, যেগুলো ইরানকে আক্রমণ করার জন্য এই অঞ্চলে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মার্কিন হামলার পর ইরানের দ্বিতীয় জাহাজের নাবিকদের ‘রক্ষার চেষ্টা’ করছে শ্রীলঙ্কা

মার্কিন হামলায় ডুবে যাওয়া ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’ ছবি সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কা উপকূলের অদূরে অবস্থানরত আরেকটি ইরানি জাহাজের নাবিকদের ‘জীবন রক্ষার’ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির মন্ত্রিসভার মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্প্রতি একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজে (ফ্রিগেট) মার্কিন হামলায় ৮০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু এবং বহু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার মুখপাত্র নলিন্দ জয়তিসা বলেন, ‘‘আমরা জীবন বাঁচানোর জন্য আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।’’ তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় জাহাজটি শ্রীলঙ্কার জলসীমার বাইরে ‘অর্থনৈতিক অঞ্চলে’ অবস্থান করছে।

গতকাল বুধবার শ্রীলঙ্কা উপকূলের অদূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডো ছুড়ে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেয়। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এখন ভারত মহাসাগরেও ছড়িয়ে পড়ছে—এই ঘটনা তারই ইঙ্গিত দেয়।

জয়তিসা জানান, দ্বিতীয় ইরানি যুদ্ধজাহাজটিতে ১০০-এর বেশি ক্রু রয়েছেন এবং এটি সেই এলাকার দিকেই যাচ্ছে যেখানে প্রথম জাহাজটি ধ্বংস করা হয়েছিল। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই জাহাজটিও একইভাবে হামলার শিকার হতে পারে।

আল জাজিরা জানায়, এই জাহাজগুলো ভারত থেকে একটি আন্তর্জাতিক নৌ-মহড়া শেষ করে ফিরছিল। দ্বিতীয় জাহাজটি ইঞ্জিন বিকল হওয়ার কথা জানিয়ে শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং বন্দরে ভেড়ার অনুমতি চেয়েছে। যদিও এখনো অনুমতি দেওয়া হয়নি, তবে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলীয় শহর গালে-তে মার্কিন হামলায় নিহত ৮৭ জন ইরানি নাবিকের মরদেহ হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। গাল প্রধান হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত ৩২ জন ইরানি নাগরিককে পুলিশ ও কমান্ডো বাহিনীর কঠোর পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সাধারণের জন্য বন্ধ করে ইরানিদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড করা হয়েছে। একজন নার্স জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের শরীরে হাড়ভাঙা এবং পোড়া ক্ষত রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর মুখপাত্র বুদ্ধিকা সম্পত জানিয়েছেন, নিখোঁজ ইরানি নাবিকদের সন্ধানে তাদের জাহাজগুলো এখনো তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আজ বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো তাদের যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’ (IRIS Dena) ডুবে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে ২,০০০ মাইল দূরে মাঝসমুদ্রে এই নৃশংসতা চালিয়েছে। ১৩০ জন নাবিক নিয়ে ভারতের অতিথি হিসেবে আসা ‘ডেনা’ ফ্রিগেটটিকে কোনো সতর্কতা ছাড়াই আক্রমণ করা হয়েছে। আমার কথা মিলিয়ে নেবেন: আমেরিকা এই ঘটনার জন্য তিক্তভাবে অনুশোচনা করবে।’’

এদিকে, ইরানি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজি) এর কমান্ডার জেনারেল কিউমার্স হায়দারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যেখানেই আমেরিকানদের পাব, সেখানেই লড়াই করব। এই যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হবে তা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।’’

বৃহস্পতিবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আইআরজি দাবি করেছে যে তারা পারস্য উপসাগরের উত্তর অংশে একটি মার্কিন তেল ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে এবং জাহাজটিতে আগুন ধরে গেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, যুদ্ধকালীন এই সময়ে ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে যাতায়াত এখন সম্পূর্ণ ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। সূত্র: আল জাজিরা

ইরানের বিরুদ্ধে ‘সামরিক সরঞ্জাম’ পাঠিয়েছে অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। ছবি সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ‘সামরিক সরঞ্জাম’ পাঠিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ এক ঘোষণার মাধ্যমে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার অংশ হিসেবে তার দেশের ‘সামরিক সরঞ্জাম’ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে।

অ্যান্টনি আলবানিজ তার পার্লামেন্টে বলেন, তার সরকার অঞ্চলটিতে (মধ্যপ্রাচ্য) ছয়টি সংকট মোকাবিলা দল পাঠিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “ইতোমধ্যে আমরা সপ্তাহের শুরুতে আমাদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছি।”

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। তবে অস্ট্রেলীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসবিএস জানিয়েছে, দুটি সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন করেছে অস্ট্রেলিয়া। সূত্র: আল জাজিরা

 

 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular