আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ইসরায়েল থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি পশ্চিম তীরে বসতি নির্মাণ ও সম্প্রসারণে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে লন্ডন।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, শুধু অন্যায়-অবিচারের সমালোচনা করাই যথেষ্ট নয়, এবার ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নিধন’র অভিযোগও তুলেছে ব্রিটিশ সরকার। তিনি বলেন, এটি আন্তর্জাতিক আইনের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। তাই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চায় যুক্তরাজ্য।
লন্ডনের নতুন নীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে সরাসরি অবৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।
ব্রিটিশ সরকারের বক্তব্য, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বর্তমান অবস্থান আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
জেরুজালেমের কাছাকাছি এই এলাকায় ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ হলে পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্রিটেনের মতে, এতে ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভৌগোলিক ধারাবাহিকতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তাই পশ্চিম তীরে ইহুদী বসতি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ হিসেবে দেখছে লন্ডন। শুধু বসতি সম্প্রসারণ নয়, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ব্রিটেন।
মিলিব্যান্ড বলেছেন, পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নিধন’ চলছে।
তবে ইসরায়েল এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার বলেছেন, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা’ এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ।
ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একই দিনে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ফ্রান্স ও কানাডাও। তিন দেশই পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে।




