ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশকক্সবাজারঈর্ষা ও হেনস্তার শিকার ড. মালা খান

ঈর্ষা ও হেনস্তার শিকার ড. মালা খান

সুমন দত্ত: নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিআরআইসিএমের ( বাংলাদেশ রেফারেন্স ইন্সটিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টস) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মালা খান। সম্প্রতি বিআরআইসিএমের কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী তার বরখাস্ত চেয়ে কর্মবিরতি পালন করছে। নারী হবার কারণে নিজে বার বার হেনস্থার শিকার হচ্ছেন বলে তিনি সকলকে জানান। প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন সহকর্মীদের দ্বারা তিনি এই হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। প্রাক্তন সহকর্মীরা ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে তার পিছু লেগেছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে এই পদে কীভাবে আছেন? এটাই ঈর্ষার একমাত্র কারণ। যেটা তার সহকর্মীরা সবার কাছে বলতে পারেন না।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে এসব কথা বলেন ড. মালা খান। সংবাদ সম্মেলনে ড. মালা খান একাই সাংবাদিকদের সকল প্রশ্নের উত্তর দেন।
ড. মালা খানকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, সম্প্রতি বিআরআইসিএমের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মশিউরকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীরা এজন্য তাকে দায়ী করেন।

এর উত্তরে ড. মালা খান বলেন, পুলিশ কাকে কি উদ্দেশ্যে গ্রেফতার করেছে সেটা তারাই ভালো বলতে পারবে। আমার এতে কোনো ভূমিকা নেই। মশিউর ছাত্রলীগ করত, কি করত না, সেটা তার ফেসবুক আইডি দেখলেই জানতে পারবেন। তার গ্রেফতারের জন্য আমি কেন দায়ী হবো?

সাংবাদিকরা ড মালা খানের পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি কি একা ওই প্রতিষ্ঠান থেকে পিএইচডি নিয়েছি। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একাধিক ব্যক্তি একই প্রতিষ্ঠান থেকে পিএইচডি নিয়ে বহাল তবিয়তে আছে। এই পিএইচডি নিয়ে অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত হয়। সেই তদন্তে আমার পিএইচডি সঠিক আছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়। এ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি নথি তিনি সাংবাদিকাদের দেখান।

তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছিল। ২২ কোটির টাকার প্রকল্পে, শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ। এই অভিযোগ সিআইডি তদন্ত করে, দুদক তদন্ত করে। কেউ অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায়নি। আজ যারা এই প্রতিষ্ঠানে নতুন ঢুকছে। তাদের কে উসকিয়ে দিচ্ছে সেই গোষ্ঠীর লোকজন যারা তাকে এই প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দিতে চায়। আজ বিআরআইসিএম বন্ধ। এতে মাসে ৬০ থেকে ৮০ কোটি টাকার পরীক্ষা প্রতিবেশী দেশে চলে যাচ্ছে। অথচ প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলে এই ক্ষতি হতো না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতিটি মেডিকেলে নানা যন্ত্রপাতি আছে। এগুলো ঠিক রাখতে হলে ক্যালিবারেশনের প্রয়োজন। যেটি এই প্রতিষ্ঠান দিয়ে থাকে। আজ সেটি হচ্ছে না। এজন্য দায়ী কারা? বিআরআইসিএমকে যারা ভালোবাসে তারা কি এমনটা করতে পারে। এটা তাদেরই কাজ যারা কোনো কাজ না করে বেতন ভাতা নিয়ে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে চায়। ড. মালা খান চলে গেলে তারা সরকারের আর দশটা প্রতিষ্ঠানের মতো চলবে। এজন্য তারা পেছন থেকে এসব করছে।

তিনি বিআরআইসিএমের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীকে কর্ম বিরতি বন্ধ করে কাজে যোগদান করতে বলেন। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে যেতে বলেন। এভাবে প্রতিষ্ঠান দিনের পর দিন বন্ধ রেখে দেশের ক্ষতি থেকে সরে আসার অনুরোধ করেন তিনি।

আরো খবর
Continue to the category
- Advertisment -spot_img

Most Popular