ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeউৎসব/দিবসঋতুরাজ বসন্ত, ফাগুনের হাওয়া বইবে দুয়ারে

ঋতুরাজ বসন্ত, ফাগুনের হাওয়া বইবে দুয়ারে

নিউজ ডেস্ক : বাংলা বর্ষপঞ্জির একাদশতম মাস ও ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। আজ পহেলা ফাল্গুন। প্রকৃতি আজ খুলে দেবে তার সৌন্দর্যের দুয়ার। সে দুয়ারে বইবে ফাগুনের হাওয়া। বসন্তের আগমনে কোকিল গাইবে গান, ভ্রমর করবে খেলা। গাছে গাছে থাকবে পলাশ আর শিমুলের মেলা। প্রকৃতি সাজবে নতুনরূপে। জেগে উঠবে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, পলাশ, নাগলিঙ্গম।

বসন্ত ষড়ঋতুর শেষ ঋতু। ফাল্গুন এবং চৈত্র মাস মিলে হয় বসন্ত। এই ঋতুর আগমন ঘটে শীত চলে যাবার পর এবং গ্রীষ্ম আসার আগে। বসন্তের প্রথম দিনে তরুণ-তরুণীরা নিজেকে রাঙিয়ে তোলে বাসন্তী রঙে। তাদের গায়ের বাসন্তী রঙে ছেয়ে যায় রাজপথ, পার্ক, বইমেলা, সবুজ চত্বর। পুরো দেশেই চলে উৎসবের আমেজ। গায়ে হলুদ আর বাসন্তী রঙের পাঞ্জাবি-শাড়ি জড়িয়ে তরুণ-তরুণীরা এদিন নিজেদের রঙিন সাজে সাজান। বসন্ত তাই

লাল-হলুদের বাসন্তী রঙে প্রকৃতির সঙ্গে নিজেদের সাজিয়ে আজ বসন্তের উচ্ছলতা ও উন্মাদনায় আজ ভাসবে বাঙালি। গাছে গাছে বাহারি ফুল আর কোকিলের কন্ঠে গান শুনে বাঙালিও কণ্ঠে তুলে নেবে রবীন্দ্রনাথের সেই পরিচিত গান ‘আহা আজি এ বসন্তে, এত ফুল ফোটে, এত বাঁশি বাজে, এত পাখি গায়।’তারুণ্যের ঋতু।

বাংলা পঞ্জিকা বর্ষের শেষ ঋতু বসন্তের প্রথম দিনকে বাঙালি পালন করে ‘পহেলা ফাল্গুন’ বা ‘বসন্ত উৎসব’ হিসেবে। বাঙালির নিজস্ব সার্বজনীন প্রাণের উৎসবের মাঝে এ উৎসব এখন গোটা বাঙালির কাছে ব্যাপক সমাদৃত।

মুঘল সম্রাট আকবর ১৫৮৫ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বাংলা নববর্ষ গণনা শুরু করেন। নতুন বছরকে কেন্দ্র করে ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেন তিনি। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এই বসন্ত উৎসব। ১৪০১ বঙ্গাব্দ থেকে ‘বসন্ত উৎসব’ উদযাপন শুরু হয়।

পহেলা ফাল্গুনকে উপলক্ষ করে রাজধানীসহ সারা দেশে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর চারুকলার বকুলতলা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, রমনা পার্ক, বনানী লেক, ধানমন্ডি লেক, রবীন্দ্র সরোবর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ দেশের অনেক জায়গায় দিনভর চলে বসন্তের উৎসব। তথ্যপ্রযুক্তির এই সময়ে মোবাইল ফোন, ফেসবুক, টুইটারে চলে বসন্তের শুভেচ্ছা বিনিময়।

বসন্ত শুধু অশোক-পলাশ-শিমুলেই উচ্ছ্বাসের রং ছড়ায় না, আমাদের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহীদদের রক্ত রঙিন পুষ্পিত রক্তের স্মৃতির ওপরও রং ছড়ায়। ১৯৫২ সালের আট ফাল্গুন বা একুশের পলাশরাঙা দিনের সঙ্গে তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ্বাস আর বাঁধভাঙা আবেগের জোয়ার যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে।

বসন্তকে বরণ করে নিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আয়োজন করা হয় মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে থাকে ফুলের প্রীতি বন্ধনী বিনিময়, আদিবাসী পরিবেশনা, শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা, একক আবৃত্তি, দলীয় আবৃত্তি, দলীয় সংগীত, একক সংগীত, বসন্ত আড্ডা, বাউল সংগীতসহ অনেক কিছু। কোথাও কোথাও অনুষ্ঠিত হয় বসন্ত শোভাযাত্রা।

বর্ণিল বসন্ত মানুষের মাঝে আনুক ভালোবাসা, অহিংসা আর অসাম্প্রদায়িকতা। ভেঙে দিক বিভেদের সকল দেয়াল। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায়, ‘ফুল ফুটুক আর না ফুটুক, আজ বসন্ত’।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular