নিউজ ডেস্ক: জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, নির্ভুল ও হালনাগাদ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একটি এনআইডির ১৫ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর তা নবায়ন করা প্রত্যেক নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে। একই সঙ্গে এনআইডি নবায়ন, ভোটার এলাকা স্থানান্তর, প্রয়োজনীয় তথ্য, আবেদন প্রক্রিয়া এবং সেবা ফি নির্ধারণ করেছে কমিশন।
বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের ১২তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়নের বিধান বিদ্যমান আইনেই রয়েছে। এখন সেটিকে কার্যকর ও বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
ইসি সূত্র জানায়, দীর্ঘ ১৫ বছরে একজন নাগরিকের ছবি, বায়োমেট্রিক তথ্য, আঙুলের ছাপ এবং অন্যান্য পরিচয়গত তথ্যের পরিবর্তন হতে পারে। তাই পরিচয় যাচাই আরও নির্ভুল ও নিরাপদ করতে নির্দিষ্ট সময় পরপর তথ্য হালনাগাদ করা প্রয়োজন বলে কমিশন মনে করছে। এই উদ্যোগের ফলে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সেবায় এনআইডি ব্যবহার আরও নির্ভরযোগ্য হবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এনআইডি নবায়নের আবেদন করার সময় আবেদনকারীকে পরিবারের সদস্যদের এনআইডি-সংক্রান্ত তথ্যও জমা দিতে হবে। একইভাবে ভোটার এলাকা বা এনআইডি স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত তথ্য ও নথিপত্র প্রদান বাধ্যতামূলক হবে। এসব সেবার জন্য নির্ধারিত সরকারি ফিও কমিশন অনুমোদন করেছে।-
বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন অনুযায়ী এনআইডির মেয়াদ ১৫ বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বা পরে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করে নবায়ন করা যায়। কমিশনের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এনআইডি নবায়ন করা প্রতিটি নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক হবে। এর মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডার আরও নির্ভুল, আধুনিক এবং নিরাপদ হবে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।




