আন্তর্জাতিক শিপিং বিশ্লেষক সংস্থা লয়েডস লিস্ট প্রকাশিত তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ ১০০ বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রামের অবস্থান এখন ৬৮তম। গত বছর যা ছিল ৬৭তম। কনটেইনার পরিবহনের বৈশ্বিক এ তালিকায় এবারে একধাপ পিছিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। এবারে সর্বোচ্চ কনটেইনার হ্যান্ডেল করার পরও এমন অবনমনের নেপথ্যে চারটি কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক এক চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পর্যাপ্ত অবকাঠামো না হওয়া, বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা, আধুনিক প্রযুক্তির স্বল্পতা ও দক্ষ জনবলের সংকট থাকায় অন্যদের তুলনায় পিছিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। এবারে সর্বোচ্চ সংখ্যক কনটেইনার হ্যান্ডেল করেছে বন্দর; কিন্তু বিশ্বের অন্য বন্দর করেছে আমাদের চেয়ে বেশি। এজন্য পিছিয়ে গেছি আমরা।
উপরোক্ত চারটি বিষয়ে নজর না দিলে এই প্রতিযোগিতায় ভবিষ্যতে আরও পিছিয়ে পড়তে পারে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর-এমনটি মনে করেন শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল আলম জুয়েলও।
২০২৪ সালে বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরের কনটেইনার পরিবহনের সংখ্যা হিসাব করে এ তালিকা প্রকাশ করেছে লন্ডনভিত্তিক শিপিংবিষয়ক বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো সংবাদমাধ্যম লয়েডস লিস্ট।
তালিকায় ৫ কোটি ১৫ লাখ কনটেইনার পরিবহন করে শীর্ষে রয়েছে চীনের সাংহাই বন্দর। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর বন্দর। তৃতীয় অবস্থানে আছে চীনের নিংবো বন্দর। গতকাল শনিবার ‘ওয়ান হানড্রেড পোর্টস ২০২৫’ শীর্ষক বিশেষ প্রকাশনায় এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।
লয়েডস লিস্টের প্রকাশনায় চট্টগ্রাম বন্দর বিষয়ে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে এই বন্দর ৩২ লাখ ৭৫ হাজার একক কনটেইনার পরিবহন করেছে। ২০২৩ সালে কনটেইনার পরিবহন হয়েছিল ৩০ লাখ ৫০ হাজার। সেই হিসাবে কনটেইনার পরিবহন ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনাল, কমলাপুর কনটেইনার ডিপো ও পানগাঁও নৌ টার্মিনাল মিলে এসব কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়েছে।
কনটেইনার পরিবহন বাড়লেও কেন বৈশ্বিক তালিকায় পিছিয়ে গেল চট্টগ্রাম বন্দর? এ প্রশ্নের উত্তরে বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, তবে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘লয়েডস লিস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রমতালিকা বা বৈশ্বিক অবস্থানের তথ্য এখনো আমাদের জানায়নি। এটি পেলে প্রতিক্রিয়া জানাবো।’
লয়েডস লিস্টের ক্রমতালিকা অনুযায়ী, গত এক দশকে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান সবচেয়ে ভালো অবস্থান ছিল ২০১৯ সালে। সেবার চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ছিল ৫৮তম।



