নিউজ ডেস্ক: মরণোত্তর একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৭০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে তাঁর জন্মস্থান বাগেরহাটের মোংলায়। এ উপলক্ষে শুক্রবার সকালে কবির গ্রামের বাড়ি মিঠাখালী বাজার থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শেষে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া-মোনাজাত এবং স্মারক আলোচনা সভা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলা সাহিত্যে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কবিকে মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পদক’-এ ভূষিত করার দাবি জানানো হয়।
কবির নিজ বাড়িতে রুদ্র স্মৃতি সংসদের সভাপতি ও কবির অনুজ সুমেল সারাফাতের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মোংলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অর্পিতা হালদার। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মান্নান হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক শাকির হোসেন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুর আলম শেখ, বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন, মারুফ বিল্লাহ, আজিজ মোড়ল এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মো. গোলাম ও জানে আলম বাবু।
আলোচনা সভায় সুমেল সারাফাত বলেন, ‘সাম্যবাদ, মুক্তিযুদ্ধ, ঐতিহ্যচেতনা ও অসাম্প্রদায়িক বোধে উজ্জ্বল ছিল রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর সাহিত্যকর্ম। সামাজিক বৈষম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান তাঁকে তারুণ্যের দীপ্ত প্রতীকে পরিণত করেছে। একই সঙ্গে তাঁর সৃষ্টিজুড়ে রয়েছে স্বপ্ন, প্রেম ও সৌন্দর্যের মগ্নতা।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বল্পায়ু জীবনে রুদ্র সাতটি কাব্যগ্রন্থের পাশাপাশি অসংখ্য গল্প, কাব্যনাট্য এবং কালজয়ী ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ গানসহ অর্ধশতাধিক সুর সৃষ্টি করেছেন। সাহিত্যে তাঁর এই অবিস্মরণীয় অবদানের সর্বোচ্চ মূল্যায়নে পরিবার ও অনুরাগী সমাজের পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারের কাছে তাঁকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করা কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে প্রয়াণ করেন। প্রেম, দ্রোহ, সাম্য ও মানবিকতার মেলবন্ধনে গঠিত তাঁর সৃষ্টিগুলো আজও তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি মরণোত্তর একুশে পদক, শ্রেষ্ঠ গীতিকারের সম্মাননা ও ঐতিহ্যবাহী মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।



