ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeউৎসব/দিবসকমলগঞ্জে খাসিয়াদের ঐতিহ্যবাহী ১২৫ তম 'সেং কুটস্নেম' উৎসব অনুষ্ঠিত

কমলগঞ্জে খাসিয়াদের ঐতিহ্যবাহী ১২৫ তম ‘সেং কুটস্নেম’ উৎসব অনুষ্ঠিত

মো: জহিরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার : মৌলভীবাজারে কমলগঞ্জে আদিবাসী খাসি (খাসিয়া) সম্প্রদায়ের বর্ষ বিদায় ও নতুন বছরকে বরণের ঐতিহ্যবাহী ‘খাসি সেং কুটস্নেম’ ১২৫ তম উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আর্থিক সংকটের কারনে তাদের এই উৎসবটি এবার হবে না বলে জানিয়েছে খাসি সোশ্যাল কাউন্সিল। কারন তাদের আয়ের একমাত্র ভরসা পান চাষ করার উপরে নির্ভরশীল, পানের বাজার মন্দা থাকায় তারা খুবই হতাশায় ছিলেন।

অবশেষে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের আর্থিক সহযোগীতায় শনিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুর ২ টায় মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি মাঠে খাসিয়াদেরে (সেং কুটস্নেম’) উৎসবের আয়োজন করা হয়।

প্রতিবছরই ২৩ নভেম্বর এই উৎসবটি আয়োজন করে আসছে খাদিয়া সম্প্রদায় । এবারের তাদের আয়োজন ছিলো ১২৫ তম বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় উৎসব।

উৎসবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) মোঃ আব্দুস সালাম চৌধুরী, মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার পিপিএম-(সেবা) এম, কে, এইচ, জাহাঙ্গীর হোসেন, শ্রীমঙ্গল থানার ওসি মো: আমিনুল ইসলাম, কমলগঞ্জ থানার (তদন্ত ওসি) মো: শামীম আকনজি সহ প্রমুখ।

খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক, ফিলা পতমী বলেন, খাসিদের আয়ের ও জীবিকার প্রধান উৎস পান চাষ। পানের ব্যবসায় এবার মন্দা হওয়াতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আর্থিক সংকট থাকার কারনে উৎসবটি বাতিল করা হয়েছিলো অবশেষে মাননীয় জেলা প্রশাসকের তহবিল থেকে সেই সংকটের দায়িত্ব নিয়েছেন ওনারা আমরা আজকে এই উৎসব পালন করতে পেরেছি

খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি জিডিশন প্রধান সুছিয়াং বলেন, বৃহত্তর সিলেট বিভাগের প্রায় ৭০টি খাসিয়া পুঞ্জির মানুষ এই উৎসবে এসে অংশ নেন প্রতিবছরে । দেশ–বিদেশের পর্যটকেরাও এই উৎসবটি দেখতে আসে।।

খাসিয়া জনগোষ্ঠীর সেং কুটস্নেম বা বর্ষ বিদায় খাসিয়াদের একটি সার্বজনীন উৎসব।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির খেলার মাঠে খাসিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী এই বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। খাসিয়ারা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও সাজসজ্জায় সেজে নেচে–গেয়ে নিজেদের সংস্কৃতি তুলে ধরেন। ‘সেং কুটস্নেম উৎসবের দিন সবাই মিলে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা তীর ধনুক খেলা, পান পাতা কুচি খেলা সহ তাদের , নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ঐতিহ্যবাহী খাবার খেয়ে আনন্দে নিজেদের সামাজিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করেন। অনুষ্ঠানস্থলে পুরো মাঠ জুড়ে মেলা বসে। বিভিন্ন স্টলে খাসিয়ারা পোশাক, পান, তীর, ধনুক, বাঁশ-বেতের তৈরী জিনিসপত্রের পসরা সাজিয়ে বসেন।

উৎসবের মেলার স্টল গুলোতে কোন প্রকার কাপড় ব্যবহার করা হয় না। বিভিন্ন গাছের লতাপাতা দিয়ে সাজানো হয়েছে এমনকি মূল মঞ্চও সাজানো হয়েছে বিভিন্ন গাছের লতাপাতা দিয়ে।

এই উৎসব দেখতে দেশ বিদেশ থেকে শত শত পর্যটক ছুটে আসেন। সোমানিয়া থেকে ১০-১২ জন নারী ও পুরুষ ট্যুরিষ্ট এই উৎসব দেখতে আসে এমনকি পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের কলকাতা থেকে ট্যুরিষ্টরা দেখতে আসেন।

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার পিপিএম-(সেবা) এম, কে, এইচ, জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এই উৎসবকে ঘিরে আমরা পুরো এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা রেখেছি। উৎসবে যারাই আসতেছেন আমাদের টিমের পুরো নজরদারি রয়েছে আগত দর্শনার্থীদের উপরে । যেহেতু এখানে অনেক বিদেশী ট্যুরিষ্ট আসছে।

এছাড়াও তিনি আরোও বলেন, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ, মৌলভীবাজার জেলার ট্যুরিষ্ট পুলিশ জোন , সাদা পোষাকে পুলিশ,বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং র‍্যাব ০৯ শ্রীমঙ্গল নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular