এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট: বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের আশপাশে কাঁকড়া চাষের নতুন সম্ভাবনা উপকূলীয় অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই অঞ্চলের লবণাক্ত পানি ও জলাভূমি ব্যবহার করে কাঁকড়া চাষের সম্প্রসারণ হচ্ছে, যা স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করছে।
কাঁকড়া রপ্তানির পরিমাণ ও আয় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কাঁকড়া রপ্তানির পরিমাণ ৮৪০ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সফটশেল কাঁকড়ার চাহিদা আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত বাড়ছে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে।
সুন্দরবনসংলগ্ন অঞ্চলে কাঁকড়া চাষে নারীরাও যুক্ত হচ্ছেন, যা তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়ার পথ প্রশস্ত করছে। কাঁকড়া চাষের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবিকা পরিবর্তিত হচ্ছে, এবং এটি চিংড়ির বিকল্প হিসেবে একটি সম্ভাবনাময় খাত হয়ে উঠছে।
তবে, কাঁকড়া চাষের সম্প্রসারণের সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক উৎস থেকে অতিরিক্ত আহরণ ও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে কাঁকড়ার মজুত কমে যেতে পারে। তাই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খামার পরিচালনা ও হ্যাচারিতে উৎপাদিত কাঁকড়ার পোনা ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।
সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কাঁকড়া খাতকে একটি পূর্ণাঙ্গ রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত করা সম্ভব। প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ, উন্নতমানের পোনা সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সুন্দরবনের উপকূলীয় অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে কাঁকড়া চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে এটি শুধু বেকারত্ব নিরসন নয়, বরং বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হয়ে উঠতে পারে।




