ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশঢাকাকামরাঙ্গীরচরে প্রকাশ্যে চলছে নকল টায়ার ও জেল উৎপাদন

কামরাঙ্গীরচরে প্রকাশ্যে চলছে নকল টায়ার ও জেল উৎপাদন

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানাধীন হুজুর পাড়া এলাকায় পুরনো ও ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের টায়ার নতুনের মতো রূপ দিয়ে বাজারজাত এবং বিদেশি নামী ব্র্যান্ডের আদলে টিউবলেস মোটরসাইকেল চাকার নকল টায়ার সিল্যান্ট জেল—c-MICHEL Tyre Sealant Auto-Tyre Gel—উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশ্যেই এই অবৈধ কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর নজরদারি নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, আল হেরা কমিউনিটি সেন্টারের পূর্ব পাশের ৬ নম্বর গলিতে অবস্থিত ১৭০/৭১ নম্বর ঠিকানার একটি বাসার বিপরীত পাশে টিনশেড একতলা ভবনের নিচতলায় পাশাপাশি দুটি কক্ষে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একটি কক্ষে কয়েকজন কর্মচারী পুরনো, ব্যবহৃত ও বাতিল মোটরসাইকেলের টায়ার পরিষ্কার করে কাটা-ছেঁড়া অংশ মেরামত, বিশেষ রাসায়নিক প্রলেপ এবং তাপ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেগুলোকে নতুনের মতো রূপ দেওয়ার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। বাইরে থেকে দেখলে এসব টায়ার একেবারেই নতুন বলে মনে হয়। পাশের আরেকটি কক্ষে টিউবলেস মোটরসাইকেল চাকার জন্য ব্যবহৃত নকল টায়ার সিল্যান্ট জেল তৈরির কার্যক্রম দেখা যায়। একটি মেশিনের মাধ্যমে বড় ড্রামের ভেতরে বিভিন্ন তরল কেমিক্যাল মিশিয়ে জেল প্রস্তুত করা হচ্ছিল। দেখতে আসল পণ্যের মতো হলেও এর মান, উপাদান ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব নকল টায়ার ও জেল বাজারে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ ভোক্তারা প্রতারণার শিকার হওয়ার পাশাপাশি মোটরসাইকেলের টায়ার ও চাকার মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। এতে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কারখানার কর্মচারীরা জানান, ব্যবহৃত ও বাতিল টায়ারগুলো ছোট ছোট অংশে কেটে বিশেষ রাসায়নিক মিশ্রণ ব্যবহার করে পুনরায় কভার দেওয়া হয়, যাতে বাইরে থেকে টায়ারগুলো একেবারে নতুন বলে মনে হয়। এসব পণ্য ঢাকা শহরসহ সারা দেশ থেকে আসা বিভিন্ন খুচরা দোকানদাররা সংগ্রহ করে নিয়ে যান। এক কর্মচারী বলেন, তারা অর্ডার অনুযায়ী কাজ করেন এবং বিস্তারিত জানার জন্য মালিকের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে গোপনে নয়, বরং প্রকাশ্যেই এসব অবৈধ কারখানা পরিচালিত হচ্ছে। বিভিন্ন সময় সাংবাদিক ও অনুসন্ধানকারীরা এলেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রতারণামূলক এই কার্যক্রম দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

এ বিষয়ে এসএপি কোম্পানির স্বত্বাধিকারী মো. মইনউদ্দিন ঢাকা নিউজ ২৪কে জানান, অন্তত ৬–৭ বছর ধরে তারা এই এলাকায় কাজ করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব টায়ার ও টিউবলেস চাকার জেল তারা অর্ডার অনুযায়ী তৈরি করেন এবং ঢাকা শহরসহ সারা দেশ থেকে মানুষ এখান থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। তবে পুরনো ও নষ্ট টায়ার নতুন বানিয়ে বিক্রির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, তারা শুধু টায়ার রিপেয়ারের কাজ করেন।

বিদেশি কোম্পানির নামে নকল জেল উৎপাদনের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি দাবি করেন, তাদের বোতলের প্যাটার্ন রেজিস্ট্রেশন করা আছে এবং ট্রেড লাইসেন্সও রয়েছে। তবে পরিবেশ ছাড়পত্র ও বিএসটিআইসহ প্রয়োজনীয় অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন, কাগজপত্র জমা দেওয়া হলেও এখনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি।

বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করে এসব পণ্য উৎপাদনের ফলে পরিবেশগত ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুরো কামরাঙ্গীরচর এলাকায়ই কারও পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। তিনি আরও দাবি করেন, এর আগেও বহু সাংবাদিক সেখানে গিয়েছেন, তাদের বুঝিয়ে বিদায় করেছেন এবং কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী রায় ঢাকা নিউজ ২৪কে জানান, তিনি এখনই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছেন না। ঠিকানা ও ছবি সহ তথ্য হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular