আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে বলে সেখান থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সও জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) মধ্যরাতে কারাকাসের বিভিন্ন এলাকায় জোরালো শব্দ শোনা গেছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, কারাকাসে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং নিচ দিয়ে উড়ে যাওয়া বিমানের শব্দ শোনা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের পর শহরের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বলেছেন, মাদক পাচার মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছে তার দেশ। ওয়াশিংটনের আগ্রাসী সামরিক প্রস্তুতি এবং সাগরে একের পর এক নৌকায় মার্কিন হামলার মধ্যে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।
মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে গত কয়েক মাস ধরে ভেনেজুয়েলার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি সামরিক চাপ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। বছরের শেষ গত বুধবারও (৩১ ডিসেম্বর) আরও চাপ বাড়াতে দেশটির তেল খাতের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে মাদুরো অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সরকার উৎখাতের চেষ্টা করছে এবং ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদ দখলে নিতেই দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের অভিযান চালাচ্ছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের ‘আন্তরিকভাবে কথা বলা শুরু করার এখনই সময়’। তার কথায়, ‘মার্কিন সরকার জানে, কারণ আমরা তাদের অনেক মুখপাত্রকে বলেছি যে, যদি তারা মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একটি চুক্তি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করতে চায়, তাহলে আমরা প্রস্তুত।’
ভেনেজুয়েলার বন্দরে সিআইএর ড্রোন হামলা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দাবি বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেননি মাদুরো। ট্রাম্প গত সপ্তাহে দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার একটি বন্দরে ড্রোন হামলা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যা সিআইএ চালিয়েছিল বলে জানায় সিএনএন।
গত তিন মাস ধরে মার্কিন বাহিনী ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় একের পর নৌকায় হামলা চালিয়ে আসছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি নৌযানে হামলা চালানো হয়েছে। সর্বশেষ হামলাটি চালানো হয় গত বুধবার। এসব অভিযানে ১১০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব নৌকায় মাদক বহন করা হচ্ছিল। তবে সেগুলো যে সত্যিই মাদক বহন করছিল তার কোনো প্রমাণ এখনো দেয়নি তারা। মানববাধিকার গোষ্ঠীগুলো এসব হামলাকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।




