ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশকিশোরগঞ্জকিশোরগঞ্জের ইটনায় জাল ভিসার খপ্পরে নিঃস্ব পাঁচ পরিবার

কিশোরগঞ্জের ইটনায় জাল ভিসার খপ্পরে নিঃস্ব পাঁচ পরিবার

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ- -কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা ইটনার লাইমপাশা গ্রামের পাঁচ দিনমজুর জীবনের মোড় ঘোরানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন। কুয়েতের ভিসা পাবেন এ আশায় জমি বিক্রি করেছেন। ধারদেনা করে টাকা জমিয়েছেন। সবকিছু শেষ হয়ে গেল এক দালালের প্রতারণায়। জাল ভিসার ফাঁদে পড়ে তারা হারালেন সাড়ে ৩২ লাখ টাকা। আজ এ পাঁচ পরিবার পুরোপুরি পথে বসে গেছে। করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের দালাল হেলাল উদ্দিন সাধির তাদের দেখিয়েছিলেন কুয়েতের ওয়েল কোম্পানিতে চাকরির স্বপ্ন। তার কথায় বিশ্বাস করে শরীফ মিয়া (৪৩), মোশাররফ হোসেন (৪৪), বাবলু মিয়া (৪০), লুসা মিয়া (৩৫) ও সানাউল করিম (৩১) একে একে তুলে দেন সাড়ে ৩২ লাখ টাকা। হেলাল তাদের কিশোরগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তিন দিনের ট্রেনিং করান। কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে ফিঙ্গারও নেওয়া হয়।

যা দেখে তারা আরও নিশ্চিত হন, সবকিছু ঠিক আছে। গত ৭ জুলাই হেলালের কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ার কানিকাটা এলাকার ভাড়াবাসায় নগদ টাকা পরিশোধও করা হয়। এরপর শুরু হয় দুঃস্বপ্ন। সময় গড়াতে গড়াতে তারা জানতে পারেন ভিসা জাল। কুয়েতে কেউ তাদের নেবে না, হেলাল টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। বরং টাকা চাইতে গেলে উল্টো হামলার মুখে পড়তে হয় তাদের। অভিযোগ রয়েছে প্রভাব খাটিয়ে শরীফ মিয়াকে মারধর করে এবং জোর করে টাকা ছিনিয়ে নেন। এছাড়াও একদিন ডিবি পুলিশের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। ভিসার কপি যাচাই করে সব মিথ্যে প্রমাণিত হলে হতভম্ব হয়ে যান পাঁচ পরিবার। বিদেশে যাওয়ার আশায় জমি বিক্রি, গরু-ছাগল বিক্রি, পাওনাদারের কাছে ধার সব মিলিয়ে এখন তারা নিঃস্ব। এ বিষয়ে গত বুধবার ২৬শে নভেম্বর বিকালে ইটনা উপজেলার লাইনপাশা গ্রামের ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিকদের তাদের গ্রামে দাওয়াত দিয়ে এনে তাদের দূদর্শা ও প্রতারনার শিকারের কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন। ভুক্তভোগী শরীফ মিয়ার বলেন, জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে ভিসা নিয়েছিলাম। এখন ঘরে খাবার নেই। পরিবার না খেয়ে দিন কাটায়। টাকা না পেলে মৃত্যু ছাড়া কোনো কিছুই করার থাকবে না।

আরেক ভুক্তভোগী মোশাররফ হোসেনের বলেন, হেলালকে সবাই বিশ্বাস করাই ছিল ভুল। এখন দেখি আমরা গরিব বলে আমাদের কথা কেউ শুনতেই চায় না। ভুক্তভোগী বাবলু মিয়া বলেন, আমাদের তিনদিনের সরকারি ট্রেনিংও ফিঙ্গার সব করানো হয়েছিল। কিছুই বুঝিনি। এখন সব শেষ। স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান বলেন, এ পাঁচ পরিবার এখন পুরোপুরি নিঃস্ব। টাকাও নেই, জীবনে দাঁড়ানোর ভরসাও নেই। পরিস্থিতি এমন যে, তাদের বাঁচার আর পথ নেই। এদিকে অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন সাধির পলাতক। তার ছেলে রিয়ানের মোবাইল নম্বর কল দিলো তিনি ‘রং নম্বর’ বলে ফোন কেটে দেন। কিশোরগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাভেদ রহিম ব্যাখ্যা করেন, পাসপোর্ট থাকলে ট্রেনিং নেওয়া যায়। ভিসা দেখে ট্রেনিং দেই না। কেউ ট্রেনিংয়ের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করলে আমাদের জানারও সুযোগ নেই। জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসার আলী আকবর বলেন, ভিসা যাচাই করা আমাদের কাজ নয়। আমরা শুধু ফিঙ্গার নিই। কেউ প্রতারণার শিকার হলে অভিবাসন আইনের আশ্রয় নেওয়াই উপায় রয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular