পার্বত্য খাগড়াছড়িতে জুম্ম ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার বিচারের দাবি এবং পাহাড়িদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রোববার বিকেল ৪টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘খাগড়াছড়িতে জুম্ম ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বিচারের দাবিতে চলমান শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচিতে সেটেলার বাঙালি কর্তৃক জুম্মদের ওপর পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা ও ঘরবাড়ি-দোকানপাট ভাঙচুরের প্রতিবাদ’ শিরোনামে আদিবাসী ছাত্রজনতার ব্যানারে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ধর্ষণের বিচারের দাবিতে বিগত কয়েকদিন থেকে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছেন। কিন্তু সরকার থেকে কোনো সাড়া পাননি। তার পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ অবরোধে আদিবাসীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। অথচ সরকার নীরব ভূমিকা পালন করছে।
গত মঙ্গলবার রাতে কিশোরী ছাত্রীকে প্রাইভেট থেকে ফেরার পথে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ওই দিন রাত ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় একটি ক্ষেত থেকে তাকে উদ্ধার করে স্বজনেরা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাকে ছয় দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ঘটনায় খাগড়াছড়িতে অবরোধ, দোকানে আগুন দেওয়া এবং ১৪৪ ধারা জারির ঘটনায় অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে।
বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অনন্ত তঞ্চঙ্গ্যার সভাপতিত্বে সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসা, আইনজীবী নিকোলাস চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের শান্তিময় চাকমা, আদিবাসী ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের জানকী চিসিম, অ্যাক্টিভিস্ট এহসান মাহমুদ, মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিলের নুমং মারমা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
দীপায়ন খীসা বলেন, এটা কি বিচ্ছিন্ন এলাকা? আমরা কিছু বললে আমাদেরকে বিচ্ছিন্ন বলা হয়, কিন্তু এখন সরকার নির্লিপ্ত হয়ে বসে আছে। খাগড়াছড়িতে আগুন জ্বলছে। সরকারের কোনো বক্তব্য নেই। সরকারের চারজন উপদেষ্টা আমার সঙ্গে ফেসবুকে যুক্ত। তারা কি এগুলো দেখছেন না?
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতিদিন বক্তৃতা করছি। তবে কোনো লাভ হচ্ছে না। সরকার মনে হয় কানে তুলা দিয়েছে। প্রতিদিন কথা বলছি, পত্রিকায় প্রকাশ হচ্ছে। তারা তো এগুলো দেখার কথা। তিনদিন ধরে কী চলছে। একটা সাধারণ ব্যাপার- একজন ছাত্রী ধর্ষিত হয়েছে, তার প্রতিবাদে ধর্ষণবিরোধী মিছিল হচ্ছে। প্রশাসন তাদেরকে বলবে, বিক্ষোভ করবেন না, আমরা এতদিনের মধ্যে অপরাধীদের ধরবো। অথবা বলবে আমাদেরকে সময় দেন। অথচ তারা কিছুই বললো না। যেন সেখানে কোনো ডিসি-এসপি নাই।
মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিলের নুমুং মারমা বলেন, ১২ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, তার বিচারের দাবিতে গত কয়েকদিন থেকে প্রতিবাদ হয়েছে। তখন কোনো মিডিয়া দেখা যায়নি। পাহাড়ে কী হয়েছে কেউ জানে না। কিন্তু সাজেকে কতজন পর্যটক আটকা পড়েছে, সেটি নিয়ে সবাই পড়ে আছে। খাগড়াছড়িতে দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, গুলি চালানো হয়েছে। আমাদেরকে বাধ্য করবেন না, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে আমরা আর সড়কে প্রতিবাদ করতে আসবো না। গুলির বদলে গুলি করতে বাধ্য করবেন না।
আদিবাসী ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের জানকী চিসিম বলেন, আমরা ধর্ষকের বিচারের দাবি জানাচ্ছি। আমরা আদিবাসীদের ওপর আক্রমণের বিচার চাইতে এসেছি। পলাতক ধর্ষকদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। বাংলাদেশকে নারীদের জন্য, পাহাড়িদের জন্য নিরাপদ করতে হবে।
সভাপ্রধানের বক্তব্যে আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অনন্ত তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, সর্বপ্রথম ২৪ ঘণ্টার একটি আল্টিমেটাম বলা হয়েছিল, এর মধ্যে যদি তিনজন ধর্ষককে এই রাষ্ট্রীয় প্রশাসন গ্রেপ্তার করতে না পারে তাহলে তারা পরবর্তীতে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ পালন করবে। পরবর্তীতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ পালন চলমান রেখেছিল। কিন্তু আমরা সেখানে কি দেখতে পেয়েছি- রাষ্ট্রীয় প্রশাসন সেটলারদের উসকে দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গলিতে পাখির মত করে আমাদের আদিবাসী ভাই বোনদের মা বোনদেরকে গুলি করছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের ভেরিফায়েড পেজ থেকে সব ঘটনার আপডেট দেয়। অথচ রাষ্ট্রীয় বাহিনী পাখির মত আদিবাসীদের গুলি করছে, এগুলো কি অন্তর্বর্তী সরকার দেখতে পাচ্ছে না? আমরা এই সমাবেশ থেকে এনজিওবাদী সরকারকে ধিক্কার জানাচ্ছি। পাহাড়ে যদি শান্তি ফিরে না আসে, পাহাড়ে যদি সহিংসতা চলমান থাকে তাহলে বাংলাদেশে শান্তি ফিরে আসবে না। এই বাংলাদেশেও সহিংসতা চলমান থাকবে বলে আমি ঘোষণা করছি।



