গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল হকের বসত বাড়িতে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করে পাঁচটি কক্ষ পুড়ে ছাই করে দিয়েছে । বৃহস্পতিবার দিবাগত-রাতে যশরা ইউনিয়নের ভারইল গ্রামের বাড়িতে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী জানায়,শুক্রবার ভোরে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে ফায়ারসার্ভিসে ফোন করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে অগ্নিনির্বাপক দল এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।
স্থানীয় প্রতিবেশী কামাল হোসেন জানান, মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করে বাড়ি ফেরার পথে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে লোকজন জড়ো করে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করি। পরে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে ঘটনা জানিয়েছি।
বাড়িতে কেউ ছিলনা বলে অগ্নিকান্ডের ঘটনা জানতে পারেনি কেউ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাড়িটিতে বিএনপির পুরোনো কমিটির গুরুত্বপূর্ণ নথি, রাজনৈতিক সংগ্রামের স্মৃতি ও ঐতিহাসিক দলীয় ডকুমেন্টস সংরক্ষিত ছিল। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে পাঁচটি কক্ষের সমস্ত কিছু। আসভাবপত্র থেকে গৃহস্থালি কোনো কিছুই রক্ষা পায়নি। দলীয় সূত্রে জানা যায়, প্রয়াত নাজমুল হক ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় এমপির নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। এই বাড়িতেই বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৭ সালে নাজমুল হককে দেখতে আসেন। সেই সময়ের ছবি,পত্রিকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘটনার পরপরই ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম ঘটনাস্থলে যান। ‘ তিনি বলেন, বিএনপির ইতিহাস মুছে ফেলার পরিকল্পিত হামলা। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও দোষীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করছি।’
আগুনের ঘটনায় প্রতিবেশী শেফালী বেগম বলেন, আমি ছোট ছোট চারটি সন্তান নিয়ে পাশের খুপরি ঘরে থাকি। ভোর রাতে আগুনের তাপে ঘুম ভাঙলে সন্তানদের নিরাপদ দুরত্বে সড়িয়ে চিৎকার করে লোকজন জড়ো করি। ততক্ষণে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
প্রয়াত নাজমুল হকের বড় ছেলে,গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদুল হক বলেন, ’ আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। ছোট ছেলে নাদিমুল হক বলেন, ’ আমরা শুধু একটি ঘর হারাইনি,হারিয়েছি বিএনপির রাজনৈতিক সংগ্রামের স্মারক। এটি নিছক আগুনের ঘটনা নয়, এটি বিএনপির অস্তিত্বের উপর আঘাত।’
গফরগাঁও সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনতোষ বিশ্বাস বলেন , ’ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দুর্বৃত্তদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।’



