ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশগৌরীপুর-কলতাপাড়া সড়কের বেহাল দশা

গৌরীপুর-কলতাপাড়া সড়কের বেহাল দশা

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ময়মনসিংহ জেলা সদরসহ সারাদেশের সাথে গৌরীপুর উপজেলা এবং নেত্রকোনা জেলার সদর ও কেন্দুয়া উপজেলার একাংশের যাতায়াতের একমাত্র সড়ক গৌরীপুর-কলতাপাড়া সড়কটির বর্তমানে বেহাল দশা। সড়কের বেহাল দশার কারণে পার্শ্ববর্তী কেন্দুয়া উপজেলা ও নেত্রকোনা সদর উপজেলার একাংশের জনগণও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। দফায় দফায় মেরামত করা হলেও দুর্নীতি, অনিয়ম আর নিম্নানের কাজের জন্য টেকসই হচ্ছে না সড়কটি। মাত্র তিন মাস আগে মেরামত করা হলেও এখনই খানা-খন্দকের জন্য অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে সড়কটি।

সড়কটির তাতকুড়া বাজার থেকে গৌরীপুর অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তের মধ্যে পড়ে মোটরসাইকেল আরোগী গৌরীপুর সরকারি কলেজের ছাত্র রাশিদুল করিম আহত হন। একই স্থানে ব্যাটারিচালিত অটো উলটে আহত হন নন্দীগ্রামের মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী তৌহিদা খাতুন। মিজানুর রহমান জানান, তারা এনজিও’র টাকা তুলতে উপজেলা সদরে আসছিলেন। গর্তে পরে অটোরিকশাটি উলটে যায়। গুজিখাঁ নার্সারির পাশে ৭-৮টি গর্তের কারণে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। সতিষা ব্রিজ ও ইটভাটার সন্নিকটে ছোট-বড় শতাধিক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কে সহস্রাধিক খানা-খন্দক। এ প্রসঙ্গে গৌরীপুরের ডা. আসাদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, তিনি এ সড়কে সপ্তাহে পাঁচ দিন যাতায়াত করেন। এ সড়কের নিয়মিত যাত্রীর সিংহভাগ কোমরের সমস্যাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এদিকে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার-এর টহড় এড়ঁৎরঢ়ঁৎ ফেসবুক আইডি সূত্রে জানা যায়, এ বছরের ১৯ মার্চ এ সড়কটির খানা-খন্দক ভরাট করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম. সাজ্জাদুল হাসান কাজ তদারকি করছেন এমন তিনটি ছবি দিয়ে উপজেলাবাসীকে মেরামতের সুবার্তা দেন। এ বার্তায় ৬৬৪ জন নেটিজেন লাইক-কমেন্ট করেন।

তবে সরজমিনে জানা যায়, সেই উন্নয়নের বার্তা ফটোসেশনেই সীমাবদ্ধ ছিল। তাতকুড়া গ্রামের আব্দুস সামাদ জানান, এখানে কিছু পিচ (বিটুমিন) জ্বাল (আগুন দিয়ে গলাতে) দিতে দেখছি। তবে কোনো খানা-খন্দক ভরাট করা হয়নি। মাঝেমধ্যে কয়েকটি গর্তে একটু সুরকি দিয়েছিল। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মোবাইল মেইন্ট্যান্সের মাধ্যমে খানা-খন্দক ভরাটের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। সড়কটির বর্তমান বেহাল দশার বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী অসিত বরণ দেব বলেন, রাস্তাটি মোবাইল মেইন্ট্যান্সের মাধ্যমে মেরামত করা হলেও টেকসই হয়নি। নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে জরুরি প্রয়োজনে এ মেরামত কাজ করা হয়। তিনি বলেন, এ অর্থবছর শেষ। আগামী অর্থবছরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়ার প্রস্তাবনা প্রেরণ করা হয়েছে। ময়মনসিংহ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী সালমান রহমান বলেন, সড়কটি মেরামতের পর যেন দীর্ঘস্থায়ী হয় সে বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নেব। দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular