গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : গৌরীপুর-কলতাপাড়া সড়কটি গৌরীপুর উপজেলা থেকে ময়মনসিংহ জেলা সদরসহ সারাদেশে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক। তবে দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি অবহেলিত ও সংস্কারবিহীন থাকায় এই সড়কের গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে তাঁতকুড়া পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার অংশে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ ও ছোট বড় গর্ত। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন সহস্রাধিক ছোট-বড় যান চলাচল করে। এসব যানবাহনে চাকরিজীবী, কৃষক, শ্রমিক, – শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে থাকে। অল্প বৃষ্টি হলেই গর্তের অংশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ছোটখাটো জলাশয়ে পরিণত হয়, যা স্থানীয়দের চলাচলকে চরম দুর্ভোগে ফেলে দেয়।
সড়কটিতে প্রায়ই যানবাহন উল্টে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। ইতোমধ্যেই অনেক যাত্রী আহত হয়েছেন, অনেকে হাত-পা ভেঙে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বছরখানেক ধরে এই দুরবস্থার মধ্য দিয়ে চলাচল করছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার-এর টহড় এড়ঁৎরঢ়ঁৎ ফেসবুক আইডি সূত্রে জানা যায়, এ বছরের ১৯ মার্চ এ সড়কটির খানা-খন্দক ভরাট করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম. সাজ্জাদুল হাসান কাজ তদারকি করছেন এমন তিনটি ছবি দিয়ে উপজেলাবাসীকে মেরামতের সুবার্তা দেন। এ বার্তায় ৬৬৪ জন নেটিজেন লাইক-কমেন্ট করেন।
তবে সরজমিনে জানা যায়, সেই উন্নয়নের বার্তা ফটোসেশনেই সীমাবদ্ধ ছিল। তাতকুড়া গ্রামের আব্দুস সামাদ জানান, এখানে কিছু পিচ (বিটুমিন) জ্বাল (আগুন দিয়ে গলাতে) দিতে দেখছি। তবে কোনো খানা-খন্দক ভরাট করা হয়নি। মাঝেমধ্যে কয়েকটি গর্তে একটু সুরকি দিয়েছিল। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মোবাইল মেইন্ট্যান্সের মাধ্যমে খানা-খন্দক ভরাটের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। সড়কটির বর্তমান বেহাল দশার বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী অসিত বরণ দেব বলেন, রাস্তাটি মোবাইল মেইন্ট্যান্সের মাধ্যমে মেরামত করা হলেও টেকসই হয়নি। নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে জরুরি প্রয়োজনে এ মেরামত কাজ করা হয়। তিনি বলেন, এ অর্থবছর শেষ। আগামী অর্থবছরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়ার প্রস্তাবনা প্রেরণ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় প্রশাসনের দৃষ্টি না থাকলেও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন-রাজগৌরীপুর মানবিক ফাউন্ডেশন। সংগঠনটি নিজেদের উদ্যোগে ও অর্থায়নে শুকবার থেকে রাস্তার সংস্কারকাজ করে চলছে। বাইরে থেকে ইটের খোয়া ও বালু ক্রয় করে খানাখন্দ ও গর্তে ফেলে ভরাট করে রোলার মেশিন দিয়ে সমান করা হচ্ছে। এসবই করা হচ্ছে সংগঠনটির স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
“রাজগৌরীপুর মানবিক ফাউন্ডেশন এর আগে প্রতিবন্ধী মানুষের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ, অসুস্থ রোগীকে অপারেশনের ব্যবস্থা করা, দুেঃস্থ ও শীতার্ত মানুষদের মাঝে কম্বল বিতরণ, নতুন রিক্সা প্রদান করে সুনাম কুঁড়িয়েছে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্বেচ্ছাসেবী ওয়ালিউল্লাহ রুবেল বলেন, “এই রাস্তায় প্রতিদিন আমাদের পরিবার, প্রতিবেশী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ চলাচল করে। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। সরকারি উদ্যোগ না থাকায় আমরা নিজেরাই এগিয়ে এসেছি।”
স্থানীয়রা এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে সরকারের কাছে সড়কটির দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানিয়েছে।



