নিউজ ডেস্ক : টানা দুই পরাজয়ে ফিফা আসিয়ান কাপ থেকে আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের। এবার গ্রুপ ‘এ’-তে নিজেদের শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে বর্তমান সূচি অনুযায়ী ম্যাচটি জাকার্তার স্টেডিয়াম উতামা গেলোরা বুং কার্নোতে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি মূলত নিয়মরক্ষার হলেও জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে দলের। অন্যদিকে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার জন্য ম্যাচটির গুরুত্ব অনেক বেশি। গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রেখে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের বড় ব্যবধানে জয়ের প্রয়োজন ছিল।
একাদশে এক পরিবর্তন
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচের একাদশ থেকে বাংলাদেশ একটি পরিবর্তন এনেছে। শেখ মোরছালিনের পরিবর্তে আক্রমণভাগে সুযোগ পেয়েছেন শাহরিয়ার ইমন। কোচ থমাস ডুলির দল ৪-৪-১-১ ছকে মাঠে নামে।
বাংলাদেশের শুরুতে ছিলেন মেহেদী হাসান শ্রাবণ, জিদান ইউসুফ, তারিক কাজী, জায়ান আহমেদ, সাদ উদ্দিন, জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরী, শোকি ইতোফুসা, রাকিব হোসেন, শামিত শোমে ও শাহরিয়ার ইমন।
অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া শক্তিশালী একাদশ নিয়েই মাঠে নামে। তাদের দলে ছিলেন গোলরক্ষক এমিল অডেরো এবং রক্ষণভাগে কেভিন ডিকস, রিজকি রিধো, এলকান বাগট ও জাস্টিন হুবনারের মতো খেলোয়াড়রা।
টানা দুই হারে বাংলাদেশের বিদায়
টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারে বাংলাদেশ। এরপর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-০ গোলের পরাজয় আসে। ফিফার ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হারটি বাংলাদেশের পরের পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনাকে কার্যত শেষ করে দেয়।
ফলে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য পয়েন্টের চেয়ে বেশি ছিল সম্মান ও আত্মবিশ্বাস ফেরানোর লড়াই। কোচ থমাস ডুলি আগেই দলের মানসিক দৃঢ়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য।
হামজার জন্মদিনে বাড়তি প্রেরণা
ম্যাচটির আরেকটি বিশেষ দিক বাংলাদেশের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর জন্মদিন। বাংলাদেশের ফুটবলে হামজার অভিষেকের পর জাতীয় দলকে ঘিরে সমর্থকদের আগ্রহও বেড়েছে। ফলে তাঁর জন্মদিনে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে জয় পেলে সেটি দলের জন্য যেমন আত্মবিশ্বাসের বার্তা দেবে, তেমনি সমর্থকদের জন্যও হবে আনন্দের উপলক্ষ।
বাংলাদেশের একাদশে হামজার উপস্থিতি মাঝমাঠে বল দখল ও প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা। তাঁর সঙ্গে জামাল ভূঁইয়া ও শোকি ইতোফুসার সমন্বয়ও ছিল বাংলাদেশের মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা।
ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা
পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স—দুই দিক থেকেই বাংলাদেশের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। ২০২২ সালের সর্বশেষ মুখোমুখি লড়াই গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। তবে এবারের আসরে ইন্দোনেশিয়া নিজেদের প্রথম ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে ২-০ গোলে হারিয়ে শক্তিশালী সূচনা করে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে আগের ম্যাচগুলোতে ইন্দোনেশিয়া কিছুটা এগিয়ে থাকলেও লাল-সবুজের দল অতীতে তাদের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছে। তাই শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল সংগঠিত রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং সুযোগ কাজে লাগিয়ে জয় তুলে নেওয়া।-
সব মিলিয়ে, টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্বের স্বপ্ন আগেই শেষ হলেও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সামনে ছিল নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ। বিশেষ দিনে হামজা চৌধুরীর জন্মদিনে জয় এনে দিয়ে আসর শেষ করতে চেয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।




