ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeখেলাচপল চমক আরও এক ধাপ

চপল চমক আরও এক ধাপ

ক্রীড়া ডেস্ক: ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তৃতীয় পরিচালনা পর্ষদ সভায় বড় চমক দিলেন কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল।

বুধবার (৩ জুন) অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার গত ৫০ বছরের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট অনুমোদিত হয়েছে।

আগামী জুলাই মাসে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়া প্রেসিডেন্ট চ্যালেঞ্জ কাপ’ ঘিরে এই রেকর্ড বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে, যার পরিমাণ অর্ধকোটি টাকারও বেশি (মোট ৬১ লাখ ৪১ হাজার ৩৯০ টাকা)।

ভার্চুয়াল এই সভায় সভাপতিত্ব করেন কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল। সভায় বাজেট অনুমোদন ছাড়াও বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ এজেন্ডা, আগামী দিনের কর্মসূচি, বিভিন্ন টুর্নামেন্টে দল পাঠানো এবং জুরি চেয়ারম্যান নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভা শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল ঐতিহাসিক বাজেটের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এই বড় অঙ্কের বাজেটটি মূলত যৌথ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প এবং টুর্নামেন্ট- উভয় আয়োজনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নতুন রূপে এই প্রোগ্রামটি বাংলাদেশে হতে যাচ্ছে। এবার আমরা বোর্ডে একটা অভাবনীয় বাজেট পেশ করেছি, যা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।’

চপল আরও বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার বিগত ৫০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো আয়োজনের জন্য অর্ধকোটি টাকার বেশি (৬১ লাখ ৪১ হাজার ৩৯০ টাকা) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত চার বছরে যে পরিমাণ ব্যয় করা হয়েছে, তার তুলনায় এটি বিশাল প্রাপ্তি।’

এশিয়ার আর্চারিকে বিশ্বমঞ্চে এক সুতোয় গাঁথার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন চপল। নিজের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ‘ওয়ান ভিশন, ওয়ান এশিয়া’। আমরা একটি অনন্য ও সমমর্যাদার এশিয়া গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শুধু একক কোনো দেশ শক্তিশালী থাকবে আর বাকিরা তলানিতে থাকবে-তা হবে না। সবাই যেন সমহারে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালে লড়াই করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।”

এই দর্শনের অংশ হিসেবেই এবারের যৌথ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী ৯টি দেশকে ৪ সেট করে বিনামূল্যে আর্চারি ইকুইপমেন্ট (খেলার সামগ্রী) দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে অতি সম্প্রতি ইয়েমেনকেও এই তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া ভুটানসহ যেসব দেশের সামর্থ্য কম, তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে সংস্থাটি। পাশাপাশি ওমান, মালদ্বীপ ও ব্রুনাই- এই তিনটি নতুন দেশ যুক্ত হওয়ায় ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার সদস্য দেশ এখন ৪১ থেকে উন্নীত হয়ে ৪৪-এ পৌঁছাতে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। 

চপলের লক্ষ্য, তার মেয়াদে এশিয়ার সবকটি দেশকে আর্চারির আওতায় আনা। এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ‘প্রেসিডেন্ট চ্যালেঞ্জ কাপ’, যা চপল সভাপতি হওয়ার পর সম্পূর্ণ নতুন একটি কনসেপ্ট হিসেবে যুক্ত করেছেন। 

‘প্রেসিডেন্ট চ্যালেঞ্জ কাপ’-এর জন্য আগামী ২৯ জুলাই থেকে দলগুলো বাংলাদেশে আসতে শুরু করবে। ৩০ জুলাই থেকে মূল কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে ২ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এবং ৩ আগস্ট দলগুলো ঢাকা ত্যাগ করবে। ভেন্যু হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে নতুনভাবে সংস্কার করা টঙ্গীর আর্চারি ট্রেনিং সেন্টারকে।

এই টুর্নামেন্টের কিছু বিশেষ দিক হলো, প্রতিটি দেশ থেকে ৬ জন করে খেলোয়াড়ের ফ্রি ফুড ও অ্যাকোমোডেশন বহন করবে ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়া। তবে শর্ত হচ্ছে, খেলোয়াড়দের মধ্যে ৫০ শতাংশ নারী এবং ৫০ শতাংশ পুরুষ হতে হবে। দলে অন্তত দুজন ইয়ুথ (যুব) আর্চার থাকা বাধ্যতামূলক। 

আইওসি চার্টার মেনে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী উপায়ে লটারির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের ছেলে ও মেয়েদের মিলিয়ে মিক্সড টিম গঠন করা হবে। যেমন- বাংলাদেশের ছেলের সঙ্গে ভারতের মেয়ে। তরুণ আর্চারদের অলিম্পিকের স্বপ্ন দেখাতে এবং খেলায় আগ্রহ বাড়াতে মেডেল ও গিফটের পাশাপাশি থাকছে প্রাইজমানিও।

প্রশিক্ষণ ক্যাম্পটি পরিচালনা করবেন বাংলাদেশের জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক। এছাড়া কাতার থেকে অ্যান্টি-ডোপিং কর্মকর্তা, ইংল্যান্ডের কিমস হাসপাতাল থেকে প্রতিনিধি এবং স্পোর্টস ইনজুরি, নিউট্রিশন, ফিজিওলজি ও সাইকোলজির ওপর ক্লাস নিতে ভারত থেকে আসবে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular