চুয়াডাঙ্গা প্রতিবেদক: দুর্নীতির অভিযোগের পর প্রশাসনিক কারণে বদলি হওয়ার পাঁচ মাস পার হলেও এখনো চুয়াডাঙ্গা জেলা সমবায় কার্যালয়ের দায়িত্ব ছাড়েননি ভারপ্রাপ্ত জেলা সমবায় কর্মকর্তা কাজী বাবুল হোসেন। নানা কৌশলে তিনি এখনও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি দপ্তরের বিভিন্ন লেনদেন ও হিসাব-নিকাশেও তিনি স্বাক্ষর করছেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, ২০২২ সালের ২৬ ডিসেম্বর কাজী বাবুল হোসেন চুয়াডাঙ্গা জেলা সমবায় কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ে সমবায় অধিদপ্তরে।
পরবর্তীতে তদন্ত শেষে প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক (প্রশাসন, মাসউ ও ফাইন্যান্স) মোহাম্মদ হাফিজুল হায়দার চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক আদেশে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে কুষ্টিয়া জেলা সমবায় কার্যালয়ে উপ-সহকারী নিবন্ধক পদে বদলি করা হয়।
পরবর্তীতে গত ৩০ নভেম্বর বিভাগীয় কার্যালয় থেকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে রিলিজ দেওয়া হয়। তবে রিলিজ পাওয়ার পরও তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা সমবায় কার্যালয়ে নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে বদলির আদেশ স্থগিত চেয়ে কাজী বাবুল হোসেন সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালকের কাছে একটি আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তার সন্তানরা চুয়াডাঙ্গায় পড়াশোনা করছে এবং সামনে তাদের বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে তার বদলির আদেশ চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। তবে ওই স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি মার্চ মাসেও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাজী বাবুল হোসেনের স্ত্রী কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের ইসলামি শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক। তার বড় ছেলে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত, ছোট ছেলে কুষ্টিয়া শহরের উপকণ্ঠের একটি হাফেজিয়া মাদরাসায় হিফজরত এবং তার মেয়ে কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অথচ বদলির আদেশ স্থগিত চেয়ে করা আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে চুয়াডাঙ্গায় অবস্থান করছেন।
সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা সমবায় কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার কথা কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী নিবন্ধক আনিছুর রহমানের। তবে এখনো তাকে চুয়াডাঙ্গায় যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে কার্যত দায়িত্বে বহাল রয়েছেন কাজী বাবুল হোসেন।
এ বিষয়ে কাজী বাবুল হোসেন বলেন, “বদলি হয়েছে, তবে এখনো যোগদান করিনি। দ্রুতই কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ে যোগদান করবো।”
অপরদিকে উপ-সহকারী নিবন্ধক আনিছুর রহমান বলেন, “আমি চুয়াডাঙ্গায় যোগদান করতে প্রস্তুত আছি। তবে অধিদপ্তর থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আদেশ দিলেই যোগদান করবো।”




