ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশছোট ইলিশ রক্ষায় মেঘনায় সব ধরনের মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা

ছোট ইলিশ রক্ষায় মেঘনায় সব ধরনের মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা

নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুর জেলায় বাচ্চা ইলিশকে বড় হবার সুযোগ দেওয়ার জন্য মেঘনা নদীসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের কয়েকটি নদীতে সব ধরনের মাছ শিকারে ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

শুক্রবার মধ্যরাত থেকে আগামী ৩০ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত নদীতে ইলিশসহ যে কোন মাছ শিকার থেকে বিরত থাকতে হবে।

একই সময় ইলিশ মাছ ক্রয়, বিক্রয়, পরিবহন এবং মজুদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নদীতে মাছ ধরার নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের ভিজিএফ’র আওতায় প্রতি মাসে ৪০ কেজি হারে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য অফিস জানায়, লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ইউনিয়ন পর্যন্ত মেঘনা নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর।

মৎস্য অফিসের তথ্য অনুসারে ১০ ইঞ্চির ছোট ইলিশকে জাটকা ইলিশ বলা হয়। ১০ ইঞ্চি আকারের একটি ইলিশের বয়স ধারণা করা হয় ৮-৯ মাস। মার্চ থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত অভয়াশ্রমে জাটকা ইলিশের বিচরণ থাকে। জাটকা আকার বৃদ্ধির লক্ষ্যেই অভয়াশ্রমে জেলেদেরকে মাছ শিকার থেকে বিরত রাখা হয়৷ আইন অমান্যকারী জেলেদের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল এবং জরিমানার বিধান রয়েছে। এছাড়াও ডিম ছাড়ার জন্য অক্টোবর মাসে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ থাকে।

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, জেলেরা যাতে মাছ শিকার করতে না পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে ট্রাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর, জেলা-উপজেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড এবং থানা পুলিশসহ সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নদী, মাছঘাট, আড়ৎ, হাটবাজার সহ বিভিন্নস্থানে অভিযান পরিচালনা করবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য অফিস জানায়, লক্ষ্মীপুর জেলায় তালিকাভুক্ত জেলের সংখ্যা ৩৮ হাজার ৮৭৫ জন৷ এদের মধ্যে ২৮ হাজার ৩৪৪ জন জেলের প্রত্যেক পরিবারকে ৪০ কেজি হারে দুই দফা ৮০ কেজি চাল সহায়তা দেওয়া হবে।

ইলিশ লবণাক্ত পানির মাছ, বেশিরভাগ সময় সাগরে থাকে কিন্তু বংশবিস্তারের জন্য প্রায় ১২০০ কিমি দূরত্ব অতিক্রম করে নদীতে পাড়ি জমায়।

২০০০ সালে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) ১১টি ইলিশ উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশ বাদে ১০ দেশে অতিরিক্ত মাছ ধরা, দূষণে ইলিশ মাছ ধরার হার কমছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এরপর ২০০২ সালে বাংলাদেশে ইলিশ রক্ষার জন্য মা মাছ ও জাটকা ধরায় নিষেধাজ্ঞা ও প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০০৩-২০০৪ সাল থেকেই জাটকা রক্ষার কর্মসূচি শুরু করা হয়, তখন থেকেই আস্তে আস্তে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে বলে মনে করেন গবেষকেরা। এর ফলস্বরূপ অন্যান্য দেশে ইলিশ কমলেও বাংলাদেশে তা প্রতিবছর ৮ থেকে ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ফিশের পরিসংখ্যান মতে, বর্তমানে বাংলাদেশ এখন ইলিশ উৎপাদন এবং রপ্তানিতে বিশ্বের মধ্যে ৮৬ শতাংশ ইলিশ বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়। ইলিশ উৎপাদনে ১১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম। বাংলাদেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৫ লাখ ৭১ হাজার টন ইলিশ উৎপাদিত হয়। দেশের প্রায় ২৫ লাখ জনবল ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিপণন ও খুচরা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। উপকূলীয় দ্বীপ ও চরাঞ্চলে কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্যবিমোচনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে ইলিশ।

বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের সূত্র, ২০১৭ সালে বাংলাদেশের ইলিশ মাছ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular