নিউজ ডেস্ক: দাম কমার প্রায় ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দাম আরেক দফায় কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমার প্রেক্ষিতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন সমন্বয়ের পর দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে এর আগে, সবশেষ আজ ১৯ মার্চ সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ৩১৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল আজ সকাল ১০ টা থেকেই।
একই সঙ্গে রূপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রূপার দাম ৩৫০ টাকা কমিয়ে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি বছর দেশে স্বর্ণের দাম ৪৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে। যেখানে দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে ২৬ বার এবং কমানো হয়েছে ১৯ বার। রূপার দাম ২৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ বার বৃদ্ধি এবং ১৩ বার কমানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের পর এই প্রথমবারের মতো সোনার দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) লেনদেনের এক পর্যায়ে সোনার দাম কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১১০ থেকে ৪ হাজার ১২০ ডলারের আশেপাশে অবস্থান করছে। যা শুক্রবারের তুলনায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ কম।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে সোনা তার ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড প্রায় ৫ হাজার ৬০০ ডলারে পৌঁছেছিল। সেই তুলনায় এখন পর্যন্ত দাম প্রায় ২৬ শতাংশ কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এই দরপতনের পেছনে কাজ করছে।
১৯৮৩ সালের পর গত সপ্তাহে সোনা বাজারে সাপ্তাহিক দরপতন ১০ শতাংশের বেশি হয়েছে।
অন্যদিকে প্রতি আউন্স রুপার দামও ৮ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৬২ দশমিক ২ ডলারে নেমে এসেছে।
সূত্র – আনাদুলো অ্যাজেন্সি




