ঢাকা  রবিবার, ১২ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতিজিডিপিতে পর্যটনের অবদান বাড়াতে আসছে মাস্টারপ্ল্যান

জিডিপিতে পর্যটনের অবদান বাড়াতে আসছে মাস্টারপ্ল্যান

জাতীয় অর্থনীতিতে পর্যটনের অবদান ক্রমশ বাড়ানোর লক্ষ্যে পর্যটন খাতের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও হালনাগাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার। তিনি বলেন, জিডিপিতে (মোট দেশজ উৎপাদন) পর্যটন খাতের বর্তমান ২ থেকে ৩ শতাংশ অবদান বাড়িয়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে সপ্তাহব্যাপী বর্ণিল আয়োজনে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

পর্যটনের নানা সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে সচিব বলেন, পর্যটন খাতে তথ্য-উপাত্তের যে ঘাটতি রয়েছে, তা নির্ধারণে কার্যক্রম চলছে। এরইমধ্যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) আওতায় একটি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মাধ্যমে ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট তৈরির কার্যক্রম চলছে।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে পর্যটন খাতে কত কর্মসংস্থান হচ্ছে, কত পর্যটক আসছেন এবং পর্যটন খাত জিডিপিতে কীভাবে অবদান রাখছে, তা জানা যাবে। ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটররা কীভাবে অবদান রাখছেন, আউটবাউন্ড পর্যটকরা কোন কোন গন্তব্যে যাচ্ছেন এবং বাংলাদেশে আসা পর্যটকদের কোথায় কোথায় আগ্রহ রয়েছে—এসব বিষয়েও একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে।

সচিব বলেন, পর্যটকদের আগ্রহের জায়গাগুলো কীভাবে উন্নয়ন করা যায়, সে বিষয়েও কাজ করা হবে। এই পূর্ণাঙ্গ চিত্রের ভিত্তিতে পর্যটন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী নির্দেশনা ও পাঁচ বছরের কৌশলগত উন্নয়ন পরিকল্পনার আলোকে মাস্টারপ্ল্যানটি সংশোধন ও হালনাগাদ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, মাস্টারপ্ল্যান হালনাগাদের কার্যক্রম আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এর আলোকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমের মাধ্যমে পর্যটন খাতের উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সচিব আরও বলেন, ২০১০ সালের পর্যটন নীতিমালাও ২০২৬ সালে হালনাগাদ করা হয়েছে। এটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জারির অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যটন খাতের জন্য সম্ভাব্য প্রকল্পগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এসব প্রকল্প থেকে বাছাই করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কাজে লাগিয়ে আগামীর পর্যটনকে আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জিডিপিতে পর্যটনের অবদান বাড়ানোর লক্ষ্যে বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।

জাতীয় অর্থনীতিতে পর্যটন শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যটন খাতের মাস্টারপ্ল্যান ঘোষণা করা হবে।

‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে পর্যটনসংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি অংশীজনদের সমন্বয়ে পর্যটন গন্তব্যভিত্তিক বর্ণিল আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এবারের পর্যটন দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থাসমূহ, বেসরকারি পর্যটনসংশ্লিষ্ট হোটেল-রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, বিনোদন পার্কসংশ্লিষ্ট সংগঠন, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা প্রশাসন ও পর্যটন গন্তব্যভিত্তিক অংশীজনেরা আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। সেই ভাবনাকে সামনে রেখে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা নিয়ে এবারের আয়োজন সাজানো হয়েছে।

ডিজিটাল প্রযুক্তির অব্যাহত অগ্রযাত্রায় পর্যটন শিল্পে বৈশ্বিক পর্যায়ে নবসম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। সেই সম্ভাবনা বাংলাদেশে কাজে লাগানোর মাধ্যমে পর্যটন শিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রভাব সৃষ্টি করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

২৭ সেপ্টেম্বর পর্যটন ভবন, পশ্চিম আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকায় বিশ্ব পর্যটন দিবসের র‍্যালি অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৯টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে র‍্যালির উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, এমপি।

পর্যটন ভবনের সম্মুখভাগে আয়োজিত র‍্যালিতে পর্যটনসংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা অংশগ্রহণ করবেন। এতে আবহমান বাংলার জীবনধারা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর ঐতিহ্য ও ঢাকার ঐতিহ্য বর্ণিলভাবে উপস্থাপন করা হবে।

সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে সাইকেল র‍্যালির উদ্বোধন এবং ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন আয়োজিত সিটি ট্যুরের উদ্বোধন করা হবে। এতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা গাইডেড ট্যুরের মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণে প্রবেশ ও সেগুলো উপভোগের সুযোগ পাবে।

২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে পর্যটন ভবনের লেভেল-১০-এর সম্মেলন কক্ষে পর্যটন অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রেক্ষাপটে দেশের সামগ্রিক পর্যটন উন্নয়ন নিয়ে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা।

এর দুদিন পর, ৩০ সেপ্টেম্বর একই সময়ে ও একই স্থানে উৎস দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। ইনবাউন্ড ট্যুরিজমের প্রসার, উৎস দেশগুলোর সঙ্গে পর্যটনবিষয়ক পারস্পরিক সহযোগিতা ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে এ সভায়। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকীর সঙ্গে ওই সভায় পর্যটন খাত নিয়ে মতবিনিময় করবেন কূটনীতিকরা।

৩ অক্টোবর হবে বিশ্ব পর্যটন দিবসের মূল আয়োজন। শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিকেল ২টা ৩০ মিনিটে ১২টি থিমেটিক প্রদর্শনী স্টলের উদ্বোধন ও স্টল পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে।

থিমেটিক স্টলে দেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, খাবার, জিআই পণ্য, ক্রাফট স্যুভেনির, ঐতিহ্যবাহী তাঁত ও বস্ত্র, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর ঐতিহ্য, পর্যটন গন্তব্যভিত্তিক উপস্থাপনা ও আবহমান বাংলার জীবনধারা তুলে ধরা হবে। এছাড়াও দিবসের প্রতিপাদ্যের সঙ্গে মিল রেখে এআইয়ের মাধ্যমে পর্যটন গন্তব্যের অভিজ্ঞতা, পর্যটন গন্তব্যে টাইম ট্রাভেল ও পর্যটন গন্তব্যের ছবি তোলার বিষয়টি তুলে ধরা হবে।

বিকেল ৩টায় শুরু হবে ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ শীর্ষক আলোচনা সভা। স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী।

ইউএন ট্যুরিজমের মহাসচিব মিজ শাইখা আল নুয়াইমির শুভেচ্ছা বাণী হিসেবে ভিডিও বার্তা প্রচার করা হবে। পর্যটন দিবসের ওপর থিমেটিক্যাল উপস্থাপনা করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রুহুল আমীন।

এছাড়াও বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য পর্বে বক্তব্য রাখবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এমপি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, এমপি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রউফ, এনডিসি, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান।

এবারের পর্যটন দিবসে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে পর্যটন শিল্পে জড়িত অংশীজনদের মাঝে প্রথমবারের মতো চালু করা বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, সেবার মানোন্নয়ন, উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিতকরণ এবং পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা ও পর্যটন উদ্যোগকে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড প্রথমবারের মতো বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ১৩টি ক্যাটাগরিতে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’ দেবে।

এই শিল্পে উৎকর্ষ, দায়িত্বশীলতা ও উদ্ভাবনের দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী উদ্যোগগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি প্রদান, টেকসই পর্যটন শিল্প গঠন ও প্রচার এবং অন্যান্য পর্যটন উদ্যোক্তা ও অংশীজনদের অনুপ্রাণিত করাই এ পুরস্কারের মূল উদ্দেশ্য।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular