নিউজ ডেস্ক: নতুন করে বড় বড় ক্রীড়া স্থাপনা নির্মাণের পরিবর্তে দেশের বিদ্যমান জেলা স্টেডিয়ামগুলো আধুনিকায়ন ও সংস্কারের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসব স্টেডিয়ামে বিভিন্ন খেলাধুলার অনুশীলন ও প্রতিযোগিতা আয়োজনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নবনির্মিত ক্রিকেট একাডেমি ও খেলোয়াড়দের জন্য ড্রেসিং রুম উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আমিনুল হক বলেন, নতুন অবকাঠামো নির্মাণের আগে দেশের বিদ্যমান মাঠ ও স্টেডিয়ামগুলোকে সর্বোচ্চ ব্যবহারোপযোগী করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে দেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলো আধুনিকায়ন করে স্বয়ংসম্পূর্ণ ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে গড়ে তুলতে একটি বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় জেলা স্টেডিয়ামগুলোতে পূর্ণাঙ্গ গ্যালারি, আধুনিক ড্রেসিং রুম ও প্রেস বক্সসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে শুধু ফুটবল বা ক্রিকেটের জন্য নয়, বিভিন্ন ক্রীড়া ডিসিপ্লিনের নিয়মিত অনুশীলন ও আয়োজনের ক্ষেত্র হিসেবেও এসব স্টেডিয়াম ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ফুটবল ও ক্রিকেটের পাশাপাশি সাঁতার, হকি, ভলিবল, টেবিল টেনিস, দাবা, আর্চারি ও শুটিংয়ের মতো খেলাগুলোর অনুশীলনের সুযোগও জেলা পর্যায়ের ক্রীড়া কমপ্লেক্সে তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে জেলা পর্যায়েই বিভিন্ন খেলার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়বে।
তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তুলে এনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করাই সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। এ জন্য জেলা স্টেডিয়ামের পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ এবং শহরের ওয়ার্ড পর্যায়ে ছোট মাঠ বা ফুটসাল মাঠ তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন আমিনুল হক। তার মতে, মাঠকেন্দ্রিক ক্রীড়া কার্যক্রম বাড়ানো গেলে শিশু-কিশোর ও তরুণদের সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি প্রতিভা বিকাশের সুযোগও তৈরি হবে।
খেলাধুলাকে শিক্ষার সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে খেলাধুলা বিষয়ে আলাদা অধ্যায় যুক্ত করার সরকারি সিদ্ধান্তের কথা তিনি উল্লেখ করেন। সেখানে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার বিষয়ে তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি মাঠে বাস্তব অনুশীলনের সুযোগ পাবে বলে জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন আমিনুল হক। অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসের মতো বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শুধু অংশগ্রহণ নয়, প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি এবং পদক অর্জনের লক্ষ্যে বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে দখল হয়ে থাকা খেলার মাঠ উদ্ধারের বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে মাঠসহ দেশের যেসব মাঠ অবৈধ দখলে রয়েছে, সেগুলো উদ্ধার করে খেলাধুলার উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
শ্রীমঙ্গল সফরে প্রতিমন্ত্রী নবনির্মিত ক্রিকেট একাডেমির বিভিন্ন সুবিধা ঘুরে দেখেন। পরে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত স্থানও পরিদর্শন করেন। স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো সম্প্রসারণের এই উদ্যোগকে তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তৈরির বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।-
সব মিলিয়ে সরকারের পরিকল্পনায় নতুন করে অসংখ্য বড় স্টেডিয়াম নির্মাণের বদলে বিদ্যমান জেলা স্টেডিয়ামগুলোর কার্যকারিতা ও ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, বহুমুখী প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং তৃণমূল পর্যায়ে নতুন মাঠ তৈরির উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জেলা পর্যায়েই খেলাধুলার জন্য আরও বিস্তৃত অবকাঠামো তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




