আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫৩৩টি উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়াম মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের চিকিৎসাসেবা বাড়ানোর জন্য বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ৫৩৩টি উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে। যাতে খুব বেশি গুরুতর অসুস্থতা না হলে উপজেলার মানুষকে চিকিৎসার জন্য জেলা হাসপাতালে আসতে না হয়। ইনশাল্লাহ, শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে।’
তিনি বলেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, গ্রামগঞ্জের দুস্থ ও খেটে খাওয়া মানুষের নারী প্রধানদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতার ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষার্থীদের পোশাক ও শিক্ষা উপকরণ পৌঁছে দেওয়ার মতো বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কোটি ২০ লাখ শিশুর জন্য পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রামে বিভিন্ন মিল-কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব শিল্পকারখানা চালু হলে দেশের তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে অবশ্যই আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে, অবশ্যই দেশের মধ্যে শান্তি রাখতে হবে।’
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে জনগণ রাজপথে নেমে আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছে।
তিনি বলেন, ‘এখন হচ্ছে আমাদের দেশ গঠন করার সময়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ যে রাজনীতির বাস্তবায়ন চায়, সে রাজনীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। দেশের ২০ কোটি মানুষই দেশের মালিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচি ও উন্নয়ন কার্যক্রমে যাতে কেউ বিঘ্ন ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে অনেক বিভ্রান্তি ছড়ানো ও গুজব রটনাকারী রয়েছে। তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তাদের অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে ভবিষ্যতে তারা কী করছে, সে দিকেও নজর রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে রাজনীতির ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে, সেই রাজনীতির ধারা অব্যাহত রাখতে হলে অবশ্যই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনসহ মৎস্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, মৎস্যচাষি, জেলে, উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ এবং কটিয়াদীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন।




