নাজমুল হোসেন, বিশেষ সংবাদদাতা : লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর বাদাম ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তার কার্যালয়ে দুটি নামজারির জন্য ২৪ হাজার টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে ভুক্তভোগীদের আপত্তির মুখে টাকার পরিমাণ কমিয়ে ১৬ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার দুপুরে চর বাদাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। এ সময় অফিসের আশপাশে কয়েকজন দালালের আনাগোনাও দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দুটি নামজারির জন্য প্রথমে ১২ হাজার টাকা করে মোট ২৪ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে তাঁরা এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানালে টাকার পরিমাণ কমিয়ে আট হাজার টাকা করে মোট ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এরপর নামজারির কাজ সম্পন্ন করার জন্য দুই ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ চার হাজার টাকা করে মোট আট হাজার টাকা নেওয়া হয়। বাকি আট হাজার টাকা খতিয়ান নেওয়ার দিন দেওয়ার কথা ঠিক হয়।
প্রায় এক মাস পর খতিয়ান নিতে তাঁরা ভূমি অফিসে এলে বাকি চার হাজার টাকা করে মোট আট হাজার টাকা পরিশোধ করেন। ওই সময় গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি জানতে চাইলে উপস্থিত হন।
এ বিষয়ে চর বাদাম ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তার মোবারক হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। যা বলার, আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলবেন।’
ভুক্তভোগী নিরুতাজ বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে টাকা জমিয়েছি। নামজারি করতে এত টাকা লাগে, তা ভাবতে পারিনি।’
আরেক ভুক্তভোগী সালমা বলেন, ‘অফিসে এলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। আর টাকা দিলে দ্রুত যেকোনো কাজ হয়ে যায়।’
বিষয়টি নিয়ে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দীনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি দেখেছি। আমি জেলা প্রশাসক স্যারকে জানিয়েছি। ভুক্তভোগীদের ডেকে আনা হবে। অতিরিক্ত যে ফি নেওয়া হয়েছে, তা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, নতুন ইউএনও দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে নজর রাখছেন। ভূমি অফিসের সেবায় অনিয়মের অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে—এমন প্রত্যাশা তাঁদের।
নামজারিতে ২৪ হাজার টাকা চাওয়ার অভিযোগ, কমিয়ে ১৬ হাজারে সমঝোতা
RELATED ARTICLES




