নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, নির্বাচনি কর্মকর্তারা গণভোটের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচার চালাতে পারবেন না। কেবল গণভোটে ভোট দেওয়ার কথা বলতে পারবেন।
নির্বাচনি আচরণ বিধি ও ভোটের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা যা খবর পাচ্ছি এবং মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করে যেটুকু দেখতে পাচ্ছি, নির্বাচন কমিশন মনে করে অতীতের অনেক নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচনের মাঠে পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার।
তিনি আরও বলেন, প্রতিনিয়তই আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আমাদের সাথে আসছেন। তাদের পরামর্শ এবং পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। এছাড়াও সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট মিডিয়া এবং সামাজিক মাধ্যমে যে বিষয়গুলো আসছে, তাৎক্ষণিকভাবে আমরা রিটার্নিং অফিসারদের নজরে নিয়ে আসছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যারা নিয়োজিত রয়েছেন, তাদেরকে এগুলো প্রতিরোধ এবং আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা তড়িৎ ব্যবস্থা নিচ্ছি।
তিনি বলেন, রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে আসলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমান আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তারা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট পাচ্ছি যে, মিনিমাম ৫০–৭০টি কেস রুজু হচ্ছে, কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে।
গণভোটের প্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, আমরা সবাইকে গণভোটে অংশগ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে, কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।
সরকার ও সরকারি কর্মকর্তাদের ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারণা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই।
সিসিটিভি বিষয়ে তিনি বলেন, সিসিটিভির আপডেট এখনও কমিশনে আসেনি। ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা সময়ের মধ্যে আমাদের কাছে পৌঁছবে।
দলগুলোর একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রত্যেকটি অভিযোগ মনোযোগের সঙ্গে শোনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলো রিটার্নিং অফিসার ও ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটিকে পাঠানো হয়েছে এবং তারা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবেন।
আস্থা-অনাস্থার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি জনগণের বিষয়। শতভাগ আস্থার সঙ্গে জনগণ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নিচ্ছে এবং মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এগুলো তো আস্থারই বহিঃপ্রকাশ।
ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সবাই ভোট দিন। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করুন। ভোট দিতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, আনসার এবং বিএনসিসি সবই নিয়োজিত থাকবে।
সংসদ নির্বাচনের ভোট, পোস্টাল ভোট এবং গণভোট একই সাথে অনুষ্ঠিত হবে। ফলাফল পাওয়ার সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে ভোট ব্যবস্থাপনা করেছি। অধিকাংশ ফল রাতের মধ্যেই পাওয়া যাবে, বড় জোর পরের দিন।
জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধকরণ ও ভোটের বাইরে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা কোনো পার্টি নিষিদ্ধ বা তাদের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ পাইনি। নিবন্ধিত দল যারা মনোনয়ন পেয়েছেন, তারা নির্বাচন করবেন।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত ১২৮টি নির্বাচনি এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। আচরণবিধি ভঙ্গের সংখ্যা ১৪৪, জরিমানা হয়েছে ৯ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা, মামলার সংখ্যা ৯৪। রিটার্নিং অফিসাররা প্রার্থীদের অঙ্গীকার করিয়েছেন আচরণবিধি পরিপন্থি কাজ করবেন না। এটি ইতিবাচক ফল দিয়েছে।




