রাশিদুল রাশেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক : গত কয়েকদিন আগে বাজেট অধিবেশনে কালো টাকা রোধ করতে সংসদ সদস্য জনাব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সংসদে প্রস্তাব করেন ৫০০ টাকা ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করে কালো টাকা রোধ করতে অনুরোধ করেন সরকারকে। নোট বাতিলের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা সমালোচনা চলছে।
এই নোট বাতিলের বিষয়ে অধ্যাপক আইনুল ইসলাম বলেন- নোট বাতিলে বরং মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে। মোট টাকার ৭০% হলো ৫০০ টাকা ও ১০০০ টাকার নোট। সুতরাং এসব নোট বাতিল করা হলে বিশাল একটা অপচয় হবে রাষ্ট্রের।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাহমুদ মীর বলেন, ‘নোট বাতিল শুধু নগদ অংশকেই টার্গেট করতে পারে, মূল সমস্যার সমাধান করতে পারেনা। কালো টাকার ২% – ৩% অংশই নগদে থাকে: আয়কর তদন্ত অনুসারে কালো টাকার মাত্র ৬% এর মতো নগদে থাকে। বাকিটা সম্পত্তি, সোনা, বিদেশে, শেয়ার ইত্যাদিতে থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এতে অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগে—GDP কমে, চাকরি চলে যায়, ছোট ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিন্তু কালো টাকার স্টক খুব একটা কমে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিছু ইতিবাচক দিক আছে, যেমন, ডিজিটাল লেনদেন (UPI, cards) অনেক বাড়বে। কিছু লোকের কাছে ভয়ের সৃষ্টি হবে, যা পরবর্তীতে ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। যদিও জাল নোট কিছুটা কমবে। নোট বাতিল এককভাবে কালো টাকা কমানোর জন্য খুব কার্যকর হবে না।’
কালো টাকা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ সম্পর্কে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বলেন, ‘দরকার দেশপ্রেম ও সচেতনতা, দরকার দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ — সম্পত্তির উপর অভিযান, ট্যাক্স সিস্টেমের সংস্কার, ডিজিটাল ট্রানজেকশন বাধ্যতামূলক করা, কর ফাঁকির শাস্তি কঠোর করা ইত্যাদি।’




