ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকরবীন্দ্রনাথ ও রাসেলের ১১৪ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক চিঠি

রবীন্দ্রনাথ ও রাসেলের ১১৪ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক চিঠি

নিউজ ডেস্ক: নোবেল পুরস্কারের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক ও যুক্তিবিদ বার্ট্রান্ড রাসেলের মধ্যকার ১১৪ বছরের পুরনো একটি অত্যন্ত বিরল ও ঐতিহাসিক চিঠি প্রকাশ করা হয়েছে।

দুই নোবেলজয়ীর মধ্যকার এই অমূল্য চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার পর তা বিশ্বজুড়ে গবেষক ও সাহিত্যপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

নোবেল প্রাইজ কর্তৃপক্ষ চিঠিটির ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছে, ‘সাহিত্যে নোবেলজয়ী বার্ট্রান্ড রাসেল এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মধ্যকার ১১৪ বছরের পুরনো এই চিঠিপত্রটির দিকে একবার নজর দিন।’

কানাডার ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরির বার্ট্রান্ড রাসেল আর্কাইভস থেকে সংগৃহীত এই চিঠি প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের দর্শনের এক অনন্য সেতুবন্ধন।

১৩ অক্টোবর, ১৯১২ সালে লেখা এই চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ রাসেলকে জানান যে, তিনি সম্প্রতি রাসেলের লেখা বিখ্যাত প্রবন্ধ “দ্য এসেন্স অব রিলিজিয়ন” (ধর্মের সারকথা) পড়া শেষ করেছেন।

রবীন্দ্রনাথ চিঠিতে উল্লেখ করেন, রাসেলের এই প্রবন্ধটি তাকে সনাতন ধর্মের পবিত্র উপনিষদের একটি শ্লোকের কথা মনে করিয়ে দেয়। উপনিষদ হলো প্রাচীন সংস্কৃতে রচিত আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক গ্রন্থ, যা বহু হিন্দু ঐতিহ্যের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯১২ সালের শুরুর দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন ইংল্যান্ড সফরে গিয়েছিলেন, তখন সেখানে বার্ট্রান্ড রাসেলের সাথে তার ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরেই মূলত এই দুই যুগান্তকারী মনীষীর মধ্যে গভীর চিন্তাভাবনার আদান-প্রদান শুরু হয়েছিল।

চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ সরাসরি রোমান হরফে মূল সংস্কৃত শ্লোকটি উদ্ধৃত করেন এবং এর ইংরেজি অনুবাদ ও নিজস্ব দর্শন ব্যাখ্যা করে রাসেলকে বুঝিয়েছিলেন যে, মানুষ যখন নিজের সংকীর্ণ বা সসীম সত্তার দেয়াল ভেঙে অসীমের জীবনের আনন্দ লাভ করতে পারে, তখনই সে সব রকমের জাগতিক ভয় থেকে মুক্তি পায়।

এই চিঠি লেখার ঠিক এক বছর পর, ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার কাব্যের জন্য প্রথম অ-ইউরোপীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করে বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস গড়েন।

এর ঠিক ৩৭ বছর পর, ১৯৫০ সালে বার্ট্রান্ড রাসেলও সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে এই চিঠিটি প্রকাশের মাধ্যমে দুই মহান নোবেলজয়ীর মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধন এবং দর্শনচর্চাকে বর্তমান বিশ্ববাসীর কাছে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলো।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular