ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeতথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও BEAR সামিট ২০২৬

ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও BEAR সামিট ২০২৬

নিউজ ডেস্ক: “বাংলাদেশ কেবল প্রযুক্তির ব্যবহারকারী বা ভোক্তা হিসেবে নয়, বরং বিশ্ব সেমিকন্ডাক্টর ও ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি ভ্যালু চেইনে অন্যতম প্রধান উদ্ভাবক ও প্রস্তুতকারক হিসেবে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত রূপকল্প হলো- ‘Science to Economy’।” এসব কথা বলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব  মোঃ আনোয়ার হোসেন।  

বিশ্বমানের প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির সুদৃঢ় ভিত্তি রচনার লক্ষ্য নিয়ে ২৫ ও ২৬ জুলাই ঢাকার নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত দু’দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিয়ার (BEAR) সামিট ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় তার কৌশলগত দর্শন নির্ধারণ করেছে-‘Science to Economy: Building a Market-Linked, Innovation-Driven Bangladesh’।

তিনি আরো বলেন, একুশ শতকের নেতৃত্ব দেবে সেইসব দেশ, যারা জ্ঞান সৃষ্টি করবে, প্রযুক্তি উদ্ভাবন করবে এবং ধারাবাহিক মানবসম্পদে বিনিয়োগ করবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের রূপকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় চারটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে কাজ করছে, প্রথমটি হলো স্টেম উন্নয়ন যেখানে দক্ষ প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীরাই এই শিল্পের মূল ভিত্তি। প্রাথমিক পর্যায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শক্তিশালী স্টেম ট্যালেন্ট পাইপলাইন তৈরি করা হচ্ছে। দ্বিতীয়টি, গবেষণা থেকে বাজার গবেষণা যেখানে শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্পের বাস্তব সমস্যার সমাধান ও অর্থনৈতিক মূল্য তৈরিতে কাজে লাগানো হবে; তৃতীয়টি, উদ্ভাবন থেকে বাজার যার মধ্যে উদ্যোক্তা, শিল্প ও বিনিয়োগকারীদের সমন্বয়ে একটি বিশ্বমানের জাতীয় উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হচ্ছে। চতুর্থটি হলো ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজিস যার আওতায় সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বায়োটেকনোলজি, রোবোটিক্স, স্পেস টেকনোলজি এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে অগ্রাধিকারমূলক কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ​নতুন যুগান্তকারী উদ্যোগসমূহ ও সামিটের সুপারিশসমূহের ভিত্তিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় অ্যাকাডেমিয়া, ইন্ডাস্ট্রি ও আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সাথে মিলে সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক ইকোসিস্টেম জোরদারে একটি বাস্তবমুখী ‘রোডম্যাপ’ তৈরি করবে। এছাড়া এরই মধ্যে ‘ন্যাশনাল বায়োটেক পার্ক’ এবং ‘ন্যাশনাল এআই ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার মতো বেশ কিছু রূপান্তরমূলক উদ্যোগ পরিকল্পনায় রয়েছে।

সচিব তাঁর বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী দিকনির্দেশনা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে তাঁর নিরবচ্ছিন্ন অঙ্গীকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসাথে সামিটে অংশগ্রহণকারী আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও অংশীদারদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি কেবল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নয়, বরং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমেই অর্জিত হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের এর সভাপতি এম এ জব্বার বক্তব্য রাখেন। দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠানে দেশ ও বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় হতে আগত প্রযুক্তিবিদ, গবেষক, শিক্ষাবিদ, শিল্পোদ্যোক্তা, তরুণ উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular