নিউজ ডেস্ক : খুলনায় বস্তাবন্দী কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬)-কে তার বাবা–মাই হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় তার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। নিহতের বাবা আলিম হোসেন আকাশ এখনো পলাতক।
শনিবার (১১ জুলাই) খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানানো হয়। পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, গত বুধবার রাতে নগরীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়ক থেকে প্লাস্টিকের বস্তার ভেতরে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে অনুসন্ধান, সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
পুলিশের দাবি, নিহত আরফানা হোসেন নির্জনা ছিল পরিবারের একমাত্র সন্তান এবং নগরীর একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারিক বিরোধের পেছনে মূল কারণ ছিল তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে টানাপোড়েন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, নির্জনা নিজের সিদ্ধান্তে একজনকে বিয়ে করেছিল এবং কিছুদিন স্বামীর সঙ্গে থাকার পর অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে আবার স্বামীর কাছে যেতে চাইলে বাবা–মায়ের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব তীব্র হয়।
ওই বিরোধের একপর্যায়ে মা মেয়েকে মারধর করেন। পরে বাবা কাঠের ফালি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে মেয়েটির মৃত্যু হয় বলে পুলিশের ভাষ্য। হত্যার পর মরদেহ লুকাতে সেটি বস্তায় ভরা হয় এবং পরে মোটরসাইকেলে করে সড়কে ফেলে আসা হয়।
ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে মরদেহের পরিচয় না মেলায় খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়। পরে নিহতের মা মরদেহটি শনাক্ত করেন। পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে শুরুতে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
পুলিশ বলছে, নিহত কিশোরীর বাবাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি ঘিরে খুলনা নগরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের ভেতরের দ্বন্দ্ব, অপ্রাপ্তবয়স্ক বয়সে বিয়ে এবং সম্পর্কজনিত বিরোধ—সবকিছু মিলিয়ে এ হত্যাকাণ্ড স্থানীয় মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ ও শোকের ছাপ ফেলেছে।-
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানাতে আলাদা সংবাদ সম্মেলনের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।




