ঢাকা  বৃহস্পতিবার, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeখেলাপেলের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়লেন নেইমার

পেলের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়লেন নেইমার

ফুটবল বিশ্বের প্রভাবশালী খেলোয়াড়দের তালিকায় ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়রের নাম অন্যতম। গোল, ট্রফি কিংবা ব্যক্তিগত অর্জনের গণ্ডি ছাড়িয়ে নিজের সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছেন একটি প্রজন্মের অনুপ্রেরণা। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত নাম তিনি।

মাঠে তার দুর্দান্ত ড্রিবলিং, গতি ও আক্রমণভাগে কার্যকর উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করেছে বারবার। একই সঙ্গে ক্যারিয়ারে গড়া অসংখ্য রেকর্ড তাকে এনে দিয়েছে বিশেষ স্বীকৃতি। চোট, বিতর্ক ও সমালোচনার মুখোমুখি হলেও প্রতিভা ও পারফরম্যান্স দিয়ে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন নেইমার।

নেইমারের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় মাইলফলক হলো ব্রাজিল জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে জায়গা করে নেওয়া। দীর্ঘদিন ধরে এই রেকর্ডটি ছিল কিংবদন্তি পেলের দখলে। তবে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পেলের ৭৭ গোলের রেকর্ড অতিক্রম করে নতুন ইতিহাস গড়েন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড।

ফুটবল ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ ব্রাজিলের হয়ে এমন একটি অর্জন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ দেশটির জার্সি পরে খেলেছেন পেলে, রোনালদো, রোমারিও, রিভালদো ও রোনালদিনহোর মতো কিংবদন্তি ফুটবলাররা। তাদের ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে ওঠা নেইমারের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে ব্রাজিলকে ফুটবলে প্রথমবারের মতো স্বর্ণপদক জেতানোর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল নেইমারের। স্বাগতিকদের সেই ঐতিহাসিক অভিযানে ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়সূচক শটটি নেন তিনিই।

একই আসরে হন্ডুরাসের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মাথায় গোল করে অলিম্পিক ফুটবলের অন্যতম দ্রুততম গোলের রেকর্ডও গড়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা।

এফসি বার্সেলোনার হয়ে খেলার সময়ই ইউরোপিয়ান ফুটবলে নিজের সেরা সময় কাটান নেইমার। লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজকে নিয়ে গড়ে ওঠা বিখ্যাত ‘এমএসএন’ ত্রয়ী ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগ হিসেবে বিবেচিত।

২০১৪-১৫ মৌসুমে বার্সেলোনার ট্রেবল জয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল নেইমারের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্ব ও ফাইনালে তার গোল দলকে শিরোপা জয়ে বড় অবদান রাখে।

২০১৭ সালে ফুটবল বিশ্বকে নাড়িয়ে দেন নেইমার। বার্সেলোনা ছেড়ে ২২২ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনে (পিএসজি) যোগ দেন তিনি।

এটি এখনো ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দলবদল। প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও কোনো ফুটবলার এই রেকর্ড ভাঙতে পারেননি।

শুধু মাঠেই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদ নেইমার। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে তার অনুসারীর সংখ্যা কয়েকশ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে।

বিশ্বজুড়ে এই বিপুল জনপ্রিয়তা তাকে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের সর্বাধিক পরিচিত ও সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের তালিকায় স্থান করে দিয়েছে।

ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ট্রান্সফার এবং বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার মতো নানা অর্জনের কারণে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের বিভিন্ন তালিকায়ও জায়গা করে নিয়েছেন নেইমার। এছাড়া বার্সেলোনার ঐতিহাসিক আক্রমণভাগের অংশ হিসেবেও তার নাম উঠে এসেছে একাধিক পরিসংখ্যানভিত্তিক রেকর্ডে।

নেইমারের ক্যারিয়ারকে শুধুমাত্র গোল কিংবা ট্রফির সংখ্যায় মূল্যায়ন করা কঠিন। তিনি এমন এক ফুটবলার, যিনি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্য, সৃজনশীলতা ও বিনোদনমূলক ধারা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

তার ড্রিবল, ফ্লেয়ার ও সাহসী খেলার ধরন বিশ্বজুড়ে অসংখ্য তরুণকে ফুটবলের প্রেমে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছে।

নেইমারের জনপ্রিয়তা ও প্রভাবের আরেকটি উদাহরণ দেখা যায় ২৫ জুন ২০২৬ অনুষ্ঠিত ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচে। দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফেরেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে মাতেউস কুনহার বদলি হিসেবে মাঠে নামতেই করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। প্রিয় ফুটবলারকে আবারও ব্রাজিলের হয়ে খেলতে দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন সমর্থকেরা।

ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। শেষ বাঁশি বাজার পর চোখের জল মুছতে দেখা যায় তাকে। সেই মুহূর্ত যেন আরও একবার প্রমাণ করে, নেইমার শুধু একজন ফুটবলার নন; তিনি কোটি ভক্তের আবেগ এবং আধুনিক ফুটবলের অন্যতম স্মরণীয় মুখ।

 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular