ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল চূড়ান্ত

প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল চূড়ান্ত

নিউজ ডেস্ক: সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল চূড়ান্ত করতে সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে পুনর্গঠিত সচিব কমিটির এ বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, সচিব কমিটির পর্যবেক্ষণ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রস্তাব এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নবম পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আরও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ ধারাবাহিকতার পরবর্তী বৈঠক আগামী ২৪ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম পে স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগায় বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। অর্থ বিভাগের একাধিক সূত্র বলছে, ঘোষণার পর থেকেই বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নতুন পে স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এবং স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন।

অর্থ বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে। এখন প্রজ্ঞাপন জারি, বিধি সংশোধনসহ আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হলে জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া বর্ধিত বেতন অক্টোবরের মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে জমা হতে পারে।

বর্তমানে মূল্যস্ফীতির প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা (ইনসেনটিভ) দেওয়া হচ্ছে। নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে এ সুবিধা পৃথকভাবে আর বহাল থাকবে না। বরং তা নতুন মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। নতুন ব্যবস্থায় মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও বিশেষ সুবিধা বাদ দেওয়ার ফলে প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি হবে তুলনামূলক কম। হিসাব অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের কার্যকর বেতন বৃদ্ধি হবে প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে তা হবে প্রায় ৪০ শতাংশ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন অস্থায়ী সুবিধা ও ভাতার পরিবর্তে মূল বেতন বৃদ্ধি করলে পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য অবসর-পরবর্তী সুবিধার পরিমাণও বাড়বে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular