ঢাকা  সোমবার, ২০শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅপরাধফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

সুমন দত্ত: আদালতের আদেশ অমান্য করে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মিরপুরের গোড়ান চটবাড়িতে থাকা ৬২৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

রোববার (৪ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ভারপ্রাপ্ত সিইও মো. আবদুর রহিম ভূঞা।

তিনি জানান, আলোচ্য সম্পত্তিটি ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে ভোগদখল করে আসছে। আমাদের কাছে মালিকানার স্বপক্ষে সমস্ত বৈধ দলিলপত্র ও রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে। এমনকি সম্পত্তির একটি অংশে আমাদের নিয়মিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং সেখান থেকে কোম্পানি ভাড়াও পেয়ে আসছে। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পরিবর্তিত পরিস্থিতির পর জনৈক আনিসুল ইসলাম ওরফে নাজমুল হঠাৎ করেই সম্পত্তির ওপর অন্যায্য দাবি উত্থাপন করেন। নিজেকে তিনি স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ভাই হিসেবে দাবি করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।

তিনি আরো বলেন, কোম্পানি শুরু থেকেই আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছে। বিষয়টি বর্তমানে মহামান্য আদালতের বিচারাধীন এবং মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনের গত ২৯/০৭/২০২৬ ইং তারিখের আদেশ মূলে উক্ত সম্পত্তির উপর রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ বজায় রাখার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে উক্ত চক্রটি আমাদের নিয়োজিত সিকিউরিটি গার্ডদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে। এ বিষয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে শাহ আলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) সায়ের করি।

অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, এর মাত্র কয়েকদিন পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে উক্ত আনিসুল ইসলাম ওরফে নাজমুলের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের একটি মাস্তান বাহিনী দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মব বা ত্রাস সৃষ্টি করে আমাদের সম্পত্তিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। তারা বেআইনিভাবে সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে আমাদের সম্পত্তি জবরদখল করে।

এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় একাধিকবার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন ভারপ্রাপ্ত সিইও।

সংবাদ সম্মেলনে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন, দখলের ঘটনার তদন্ত, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং অবৈধ দখলদার উচ্ছেদসহ ছয় দফা দাবি জানায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফ।

কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা কোনো সংঘাত চায় না; আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পত্তি উদ্ধার এবং গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষাই তাদের মূল লক্ষ্য।

 ফারইস্ট লাইফের ৬ দফা দাবি:
১। আদালতের আদেশের পূর্ণ বাস্তবায়ন: বিচারাধীন সম্পত্তির ওপর আদালতের দেওয়া আদেশের শতভাগ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ২। জবরদখল চেষ্টার তদন্ত: আদালতের আদেশ অমান্য করে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৫০-৬০ জনের সশস্ত্র মহড়া ও জোরপূর্বক সীমানা প্রাচীর নির্মাণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হতে হবে।
৩। প্রভাব বিস্তারের তদন্ত: এই দখল প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে যে অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে।
৪। শাহ আলী থানা পুলিশের ভূমিকার জবাবদিহি ঘটনার আগে ও পরে সুস্পষ্ট অভিযোগ এবং জিডি (২১ ও ২৭ সেপ্টেম্বর) থাকার পরও শাহ আলী থানা পুলিশের চরম নিষ্ক্রিয়তার কারণ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করতে হবে।
৫। গ্রাহকের সম্পদ রক্ষা: একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের বৈধ সম্পত্তি ও গ্রাহকদের আমানত রক্ষায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৬। দখলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান: আইন ও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি অবিলম্বে অবৈধ দখলমুক্ত করে কোম্পানির শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular