নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পরও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এখনো রয়ে গেছে তাদের দোসররা, যারা দুর্নীতি ও অপকর্মের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে চলেছে। সম্প্রতি এমনই এক বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞানী পরিষদের সভাপতি এবং বাংলাদেশ রেফারেন্স ইন্সটিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টস (বিআরআইসিএম)-এর চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার মালা খানকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে সাধারন ছাত্র-জনতা।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনকারী সাধারন ছাত্র-জনতা পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিআরআইসিএমের সাধারণ বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গত ছয় মাস ধরে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, মালা খান বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় থেকে নানা অনিয়ম, জালিয়াতি, আর্থিক দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিআরআইসিএমের মহাপরিচালকের পদ দখল করে, ভুয়া পিএইচডির মাধ্যমে পদোন্নতি আদায় করেছেন।
তিনি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের ঘনিষ্ঠজন। অভিযোগ রয়েছে, ৫ই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর যখন আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা আত্মগোপনে চলে যান, তখন মালা খানই মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানকে লুকিয়ে রেখেছিলেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাট, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধমতের কর্মচারীদের হয়রানি ও নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
ছাত্র জনতার দাবি, মালা খান শুধু দুর্নীতিবাজ নন, বরং তিনি ছাত্র-জনতার বিপ্লব দমনেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। ৩০শে জুলাই মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের সঙ্গে বসে আন্দোলন দমনের নীল নকশা এঁকেছিলেন। পরবর্তীতে ৮, ৯ ও ১০ আগস্ট তিনি বিআরআইসিএমের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গায়েব করেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এখন তিনি নিজের দুর্নীতির অপকর্ম ধামাচাপা দিতে আন্দোলনকারীদের ভয়ভীতি ও হেনস্থা করছেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করতে বৈষম্যবিরোধী প্রতিবাদী গোষ্ঠীর সাথে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
ছাত্র জনতা দাবি তুলেছেন, ফ্যাসিবাদের দোসর ও দুর্নীতিবাজ মালা খানকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে প্রশাসন থেকে এই ধরনের ব্যক্তিরা চিরতরে নির্মূল হয় এবং বাংলাদেশ নতুন পথের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।



