নিউজ ডেস্ক : বৈরী আবহাওয়া, টানা ভারী বর্ষণ এবং বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির কারণে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন আজ (বুধবার) অনুষ্ঠেয় এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক জরুরি আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরে ঘোষণা করা হবে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া দেশের বাকি সব শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে পৃথক দুটি আদেশে প্রথমে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও পরে কক্সবাজার জেলার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতার পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলার পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পরীক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও পরীক্ষা পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর পক্ষে নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছানো কার্যত অসম্ভব হয়ে ওঠে।
এবার সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত হলেও অন্য শিক্ষা বোর্ডগুলোর পরীক্ষা যথারীতি চলবে। স্থগিত পরীক্ষার নতুন তারিখ ও সময় পরবর্তীতে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
এদিকে টানা দুই দিনের অতি ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। চট্টগ্রাম নগরীতে গত ২৪ ঘণ্টায় কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। অতিবৃষ্টির ফলে নগরীর বিভিন্ন সড়ক, আবাসিক এলাকা এবং নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় একাধিক স্থানে ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে।
দুর্যোগে চট্টগ্রাম নগর, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি এবং কক্সবাজারে দেয়ালধস ও পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি–রাঙামাটি সড়কের মাইসছড়ি এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় দুই জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে জরুরি সেবা, পণ্য পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে বিমান ও রেল যোগাযোগেও। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি। অন্যদিকে রেললাইনের ওপর পানি জমে থাকায় প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেন দীর্ঘ সময় চট্টগ্রাম নগরের ষোলোশহর স্টেশনে আটকে থাকে। এতে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজার জেলা। জেলার উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে গত দুই দিনের বৃষ্টিতে ছোট-বড় প্রায় ১৯৩টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া কক্সবাজার সদর, টেকনাফ, রামু, মহেশখালী, চকরিয়া ও পেকুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে শতাধিক গ্রাম পানির নিচে চলে গেছে। বহু মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।-
দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্থগিত পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি দ্রুত প্রকাশ করা হবে এবং পরীক্ষার্থীদের যথাসময়ে অবহিত করা হবে।




