লাকসাম, (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : ছয় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। আর এই ছয়টি ঋতুর মধ্যে ঋতুরাজ বসন্ত। কোকিলের সুমধুর কন্ঠে মাতাল করতে ঋতুরাজ বসন্ত উকি ঝুঁকি দিচ্ছে শীতের শেষ প্রান্তে। সেই সাথে আমের মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে আম গাছগুলো।
দক্ষিনাঞ্চলের বৃহত্তম লাকসাম উপজেলায় আমের মুকুলের ঘ্রাণ জানান দিচ্ছে ঋতুরাজ বসন্তের উপস্থিতি। মুকুলে মুকুলে নতুন ভাবে সেজেছে শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলের সকল আমগাছগুলো। মুকুলের ভারে নুয়ে পড়ার উপক্রম চারপাশের প্রায় প্রতিটি আমগাছ। থোকা থোকা মুকুলের ভারে ঝুলে পড়েছে আমগাছের ডালপালা। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে বসন্তের নান্দনিক সাজে সেজেছে যেন আমগাছগুলো। এযেন আগাম বসন্তের আগমনি বার্তায় শোভা ছড়াচ্ছে স্বমহিমায়।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, এ দিকে বসন্তের সোনালী হলুদ রংয়ের আমের মুকুলের মনকাড়া সু-গন্ধ, মৌমাছিরা দলে দলে ঘুরে বেড়াচ্ছে গুন গুন শব্দে মুকুলের উপর। ছোট ছোট পোকা-মাকড় ও পাখিরাও মুকুলে বসে মনের আনন্দে স্বাধ নিচ্ছে। এমন দৃশ্যের দেখা পাওয়া যাচ্ছে আম গাছে গাছে। এ যেন এক অপরূপ প্রকৃতি। এছাড়া শহর এলাকা ছাড়াও জেলা দক্ষিনাঞ্চলের ৫টি উপজেলার গ্রামাঞ্চলের গাছে গাছে মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে আম গাছ। গাছগুলোতে মুকুলের সঙ্গে গুটি গুটি আমের দেখাও মিলছে। রাতের ঘন কুয়াশা আর শিলা বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেলে এবছর আমের ভালো ফলন পেতে ছত্রাক নাশক ঔষধ প্রয়োগসহ গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন আমগাছ মালিকদের কেউ কেউ।
অপরদিকে জেলা দক্ষিনাঞ্চলের একাধিক আমের গাছের মালিক জানায়, এ অঞ্চলের অধিকাংশ গাছেই ইতিমধ্যে মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে। তবে এবার ঘন কুয়াশা পড়ছে তবে এখনও শিলা বৃষ্টি না হওয়ায় গাছে গাছে মুকুলে ভরে উঠে এবং আগামী দিনগুলো প্রকৃতির উপরেই নির্ভর করতে হচ্ছে। প্রাকৃতিক কারনে এবার অতীত সময়ের চেয়ে আগেভাগেই আম গাছে মুকুল এসেছে। গাছে গাছে অজস্ত্র মুকুল দেখে এবার বাম্পার ফলনের আসা করা যাচ্ছে। সর্বত্রই আমগাছগুলো তার মুকুল নিয়ে হলুদে রং ধারণ করে সেজেছে যেন এক অপরূপ সাজে।
এ ব্যাপারে জেলা- উপজেলা কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় পরিবেশবীদদের একাধিক সূত্র জানায়, আম গাছে মুকুল আসার আগে কিংবা পরে যেমন আবহাওয়ার প্রয়োজন এ বছর কিন্তু এখন তা বিরাজ করছে। মুকুলের এ সময় প্রধান শত্রæ কুয়াশা আর শিলা বৃষ্টি। এবার জেলা দক্ষিনাঞ্চলের কয়েক লাখ আম গাছে মুকুল ধরেছে। তবে বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে চলমান বছরে আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।



