ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeবিনোদনবাঁশির সুরে ওস্তাদ আজিজুল ইসলামের জন্মদিনে সংগীতময় শ্রদ্ধা

বাঁশির সুরে ওস্তাদ আজিজুল ইসলামের জন্মদিনে সংগীতময় শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের প্রখ্যাত বংশীবাদক ওস্তাদ ক্যাপ্টেন আজিজুল ইসলাম-এর ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত একক বংশী বাদন অনুষ্ঠান জাতীয় যাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। পথিকৃৎ ফাউন্ডেশন ও সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ সন্ধ্যায় বিশিষ্ট শিল্পী ওস্তাদ ক্যাপ্টেন আজিজুল ইসলাম তাঁর অনবদ্য বংশীবাদনে দর্শকদের মোহিত করেন।

বাংলাদেশ বাশরী ফাউন্ডেশন – এর পক্ষ থেকে ওস্তাদ আজিজুল ইসলামকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে একটি চমৎকার পরিবেশনা দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক লিয়াকত আলী, সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও পথিকৃত ফাউন্ডেশনের সভাপতি। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার কথা ছিল শরমিন এস. মুরশিদ, মাননীয় উপদেষ্টা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। তবে অসুস্থতার কারণে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি।

বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নারী সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরিন পারভীন হক, খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মাসিউদ্দিন শাকের, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ওস্তাদ আজিজের ভাই শাহেদুল ইসলাম হেলাল, এবং ওস্তাদজির স্ত্রী, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. আনজুমান আরা বেগম।

অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে ওস্তাদ আজিজুল ইসলামকে তাঁর ৮০তম জন্মবার্ষিকীর আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁর দীর্ঘ সংগীতযাত্রার প্রশংসা করেন। তাঁরা উল্লেখ করেন, শাস্ত্রীয় সংগীতের চর্চা ও প্রচারে ওস্তাদজি যে অবদান রেখেছেন, তা অনন্য ও অনুকরণীয়। অস্তাদ আজিজুল ইসলাম কে ফুলেল শুভেছা জানান উপস্থিত দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজন, সাংবাদিক, শিল্পী ও সংগীতপ্রেমীরা।

সবশেষে বংশীবাদক ওস্তাদ ক্যাপ্টেন আজিজুল ইসলাম মূল অনুষ্ঠান শুরু করেন রাগ দরবারি কানাড়া দিয়ে। এছারাও তিনি রাগ হংসধ্বনি ও রাগ ঝিঁনঝটি পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের বিমোহিত করে। তাঁর সুললিত সুরের মূর্ছনায় মিলনায়তন আবিষ্ট হয়ে ওঠে, শ্রোতারা গভীর মনোযোগ ও আবেগ নিয়ে এই সংগীত সন্ধ্যা উপভোগ করেন।

অনুষ্ঠানটি বংশীবাদনের এক অনন্য সন্ধ্যায় পরিণত হয়, যা শ্রোতাদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বংশী পরিবেশনের সঙ্গে শিল্পীর সাথে তবলায় ছিলেন বিশ্বজিৎ নট্ট এবং তানপুরায় ছিলেন সাইফুল ইসলাম। পুরো অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন রেজয়ানুল কবির সুমন ও মাশফিদা আক্তার মালা।

ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য বাঁশিবাদক, যিনি শাস্ত্রীয় সংগীতে অসামান্য অবদান রেখেছেন। ১৯৪৪ সালে রাজবাড়ীতে জন্মগ্রহণকারী এই গুণী শিল্পী নাবিক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে পুরোপুরি শাস্ত্রীয় সংগীতে নিজেকে নিবেদন করেন। তিনি ওস্তাদ বিলায়েত আলী খান, বাহাদুর খান এবং দেবেন্দ্র মুরদেশ্বরের কাছে তালিম নেন। ২০১৭ সালে তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পুরস্কার একুশে পদক অর্জন করেন।

এছাড়াও তিনি বাংলা একাডেমি সম্মাননা (২০২১), সংগীত পিয়াসী পুরস্কার, পল হ্যারিস ফেলো পুরস্কার, চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড এবং সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার সহ আরও বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular