নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে একীভূতভাবে গঠিত পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীরা ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে তাদের আমানতের অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। শুরুতে চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে এককভাবে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত তাত্ক্ষণিকভাবে উত্তোলন সম্ভব হবে — এটি ঘোষিত প্রাথমিক পর্যায়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যদি কারও চলতি বা সঞ্চয়ী হিসাবের মধ্যে দুই লাখ টাকারও বেশি আমানত থাকে, তবে পরবর্তী পর্যায়ে প্রতি প্রতি তিন মাসে এক লাখ টাকা করে কর্তৃপক্ষ শর্তসাপেক্ষে উত্তোলনের সুযোগ দেবে; সর্বোচ্চ একক সুবিধা অনুক্রমে সাত লাখ টাকার সীমা পর্যন্ত করা হবে। দুই বছর পর পূর্ণ আমানত উত্তোলনের শর্ত পুরোদমে কার্যকর হবে — তবে বিশেষ ক্ষেত্রে (কিডনি ডায়ালিসিস বা ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী ইত্যাদি) প্রয়োজনীয় সুবিধা আলাদা নির্ধারিত হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে যে ঘরোয়া ও ক্ষুদ্র আমানতকারীরাও অনবরত ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন, তাদের জন্য তা শিথিলতার প্রথম বড় সংকেত বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যক্তিগত আমানতকারীরাই প্রথম অগ্রাধিকার পাবেন; আর প্রাতিষ্ঠানিক (ইনস্টিটিউশনাল) আমানতের মধ্যে যে অংশ সাত লাখ টাকার ওপরে—তা পাঁচ বছর মেয়াদি আমানতে রূপান্তরিত করে মুনাফা বহালের নিয়ম প্রযোজ্য হবে। মুনাফা হার নিদিষ্টভাবে ব্যাংক রেটের তুলনায় ১ শতাংশ কম রাখা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ আছে।
আরো পড়ুন : পাঁচ ব্যাংক একীভূতিতে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’-র অনুমোদন
ব্যাংক গ্রাহকরা কিভাবে করবেন — ব্যবহারিক নির্দেশনা: পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ থেকে উত্তোলন শুরু হলেও ব্যাংক শাখায় ভিড় ও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে; তাই গ্রাহকদের শেখানো হচ্ছে —
(১) সাবধানে অফিসিয়াল শাখা বা পরিবর্ধিত কাস্টমার সার্ভিস অউটলেটে যান,
(২) জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত পত্র ও মোবাইল নম্বর নিয়ে উপস্থিত থাকুন,
(৩) স্বাস্থ্যপ্রবণ গ্রুপ (কিডনি/ক্যান্সার) হলে চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন যাতে অগ্রাধিকার পাওয়া যায়।
ব্যাংকগুলো পৃথক নোটিশে শাখাভিত্তিক সময়সূচি ও কাগজপত্রের তালিকা জানাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, এ পদক্ষেপ আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে সহায়ক হলেও তা ব্যাংকিং খাতে সম্পূর্ণ সুস্থতার প্রতিশ্রুতি নয় — কারণ একটি মিলিত বা একীভূত ব্যাংকিং কাঠামো পুনরায় স্থিতিশীল করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী লিকুইডিটি ব্যবস্থাপনা, সুদহার রিভিউ ও ঋণ-মান উন্নয়ন ব্যবস্থা দরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তাত্ক্ষণিক উদ্যোগ গ্রাহক-সংরক্ষণের একটি প্রথম ধাপ, কিন্তু পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় আর্থিক শুদ্ধি, বহিঃউৎসে বিনিয়োগ এবং তদারকি আরও শক্ত করতে হবে—এমনই মন্তব্য সমীক্ষকরা করেছেন।
এ সময় গ্রাহকদের কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি: ব্যাংক শাখায় হঠাৎ বড় ভিড় এড়াতে সময়মত পয়েন্ট-ভিজিট পরিকল্পনা করুন; অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল-ব্যান্কিং বা সেন্ড-অফিসিয়াল নোটিফিকেশন যাচাই করে নিন; আর সন্দেহজনক কোনো অফারের ফাঁদে না পড়ে অফিসিয়াল হটলাইন বা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকেই নথিপত্র যাচাই করবেন। ব্যাংকিং নিয়মাবলী ও শর্ত মেনে চললে উত্তোলন প্রক্রিয়ায় সুবিধা পাবেন।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




