নিজস্ব প্রতিবেদক : বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক খান মোয়াজ্জাম হোসেন রাসেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নাগরিক সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে তাঁকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী। পরে পুলিশ ও উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তার সহায়তায় তাঁকে সেখান থেকে বের করে নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নাগরিক সনদ, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন এবং ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সেবা নিতে নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে দিনের পর দিন পরিষদে ঘুরতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর খান মোয়াজ্জাম হোসেন রাসেল গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ কয়েকজন ভুক্তভোগী মঙ্গলবার পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে তাঁকে পরিষদ কার্যালয় থেকে বের করে নেওয়া হয়।
গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খোকন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েও প্রশাসকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা বলেন, ঘটনাস্থলে প্রাথমিক অভিযোগের বিষয়ে পাঁচজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তাঁদের বক্তব্যসহ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, প্রশাসকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে খান মোয়াজ্জাম হোসেন রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি কচুয়া উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।




