নিউজ ডেস্ক: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতার মানদণ্ড আরও কঠোর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ঋণখেলাপির গ্যারান্টার, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি ও ভূমি করের বিলখেলাপি, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এসব পরিবর্তন কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রস্তাব পাঠাবে নির্বাচন কমিশন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, কমিশনের আলোচনায় স্থানীয় সরকার আইনের বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনা করে নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে একাধিক সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ইসি জানিয়েছে, বর্তমানে শুধু ব্যক্তিগত ঋণখেলাপিদের ক্ষেত্রে যে বিধান রয়েছে, তা আরও সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি খেলাপি ঋণের জামিনদার (গ্যারান্টার) হলেও তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ভূমি কর কিংবা সরকারি ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিও প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারেন।
এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে লাভজনক পদে কর্মরত ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সীমিত করারও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
কমিশন আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদ—এই পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার আইনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা আরও স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হবে। ইসি সচিব বলেন, বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের প্রস্তাব দ্রুত স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। সরকার প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করলে পরবর্তী সময়ে আইন সংশোধনের মাধ্যমে সেগুলো কার্যকর হবে।-
নির্বাচন কমিশনের মতে, এসব পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অধিকতর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং যোগ্য ও দায়িত্বশীল প্রার্থীদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা। তবে এসব সুপারিশ এখনো চূড়ান্ত আইন নয়; সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের পরই নতুন বিধান কার্যকর হবে।




