মানিকগঞ্জে আবারও স্বর্ণের দোকানে লুটের ঘটনা ঘটেছে। দোকানের মালিককে ছুরিকাঘাত করে ২২ ভরি স্বর্ণ নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার গভীর রাতে জেলা শহরের স্বর্ণকারপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
রক্তাক্ত অবস্থায় দোকান মালিক শুভ দাসকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ীদের দাবি, এটি ডাকাতির ঘটনা। তবে পুলিশ বলছে, এটি দুর্বৃত্তদের কাজ। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল রোববার দুপুরে দোকানপাট বন্ধ রেখে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ীরা।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি এসএম আমান উল্লাহ জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ও আহত ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাত আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে স্বর্ণকারপট্টির পাণ্ডব ভবনের নিচতলায় অভি অলংকার নামে দোকানে প্রবেশ করে ক্যাপ পরা দুই ব্যক্তি। তারা দোকান মালিক শুভ দাসের গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে লকার ভেঙে প্রায় ২২ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে। স্বর্ণ লুটের সময় শুভ দাস বাধা দিলে তাঁকে পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক মানিকগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকে দোকানপাট বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ীরা। রোববার বেলা দেড়টার দিকে মানববন্ধন করেন তারা। মানববন্ধনে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানান, ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর ওই স্বর্ণকারপট্টির নাগ জুয়েলার্সে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় সেখানে সন্ধ্যার পর থেকে পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা করা হয়। এর মধ্যেই গত শনিবার রাতে আবারও স্বর্ণকারপট্টির আরেক দোকানে লুটের ঘটনা ঘটল। শনিবারে ডাকাতি এবং পুলিশের টহলের বিষয়ে ওসি এসএম আমান উল্লাহ বলেন, পুলিশ টহলে ছিল নাগ জুয়েলার্সের পাশের মোড়ে। স্বর্ণ লুটের ঘটনা ঘটেছে উত্তর পাশের গলির মাথার দোকানে।
মানিকগঞ্জ জুয়েলার্সের মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তপন নাগ জানান, ডাকাতির প্রতিবাদে জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব স্বর্ণের দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। স্বর্ণকারপট্টিতে নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও লুট হওয়া স্বর্ণ উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। দোকান খোলার বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



