আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলন ভারত ও চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির সূচনা করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং—উভয় নেতাই সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন; তাঁরা মনে করেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য এটি অপরিহার্য।
আলোচনাকালে নেতৃবৃন্দ ২০২৫ সালের আগস্টে তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত তাঁদের সর্বশেষ বৈঠকের পর থেকে অর্জিত ধারাবাহিক অগ্রগতির বিষয়টি স্বীকার করেন। তাঁরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংবেদনশীলতা ও স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর পুনরায় জোর দেন। এই পদ্ধতির লক্ষ্য হলো এমন একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা, যা উভয় দেশের উদ্বেগের বিষয়গুলো—বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে—সমাধান করতে সক্ষম হবে।
ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর স্বাক্ষরিত ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ একটি ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতি এই প্রতিশ্রুতিকে আরও জোরালো করে তোলে। এতে বহুপাক্ষিকতা এবং বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
মোদি ও শি সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং ব্যবসায়িক সংযোগের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করার গুরুত্বও স্বীকার করেন। তাঁরা কাঠামোগত বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা দূর করা এবং বাজারে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা বিধানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হন; অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য এ বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে উভয় নেতাই ব্রিকস কাঠামোর আওতায় উচ্চমানের উন্নয়ন ও বৃহত্তর সহযোগিতার বিষয়ে একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। একটি বহুমুখী (মাল্টিপোলার) বিশ্বের পক্ষে তাঁদের অবস্থান গ্রহণ ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্ব পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তাঁদের পারস্পরিক বোঝাপড়ারই প্রতিফলন।
পরিশেষে বলা যায়, ২০২৬ সালের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন কেবল ভারত ও চীনের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্বকেই শক্তিশালী করেনি, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আরও সহযোগিতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের পথও প্রশস্ত করেছে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা ভবিষ্যতে তাঁদের কূটনৈতিক সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।




