ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img

ভানু মাস্টার

প্রিন্স মাহমুদ

নমস্কার
আমাকে চিনবেন না সে উপায় কী আছে আর?
২৫ বছর, প্রথম বাবার সহযোদ্ধা হিসাবে শুরু
পরে জীবনীগ্রন্থে অধ্যায়
এবং ধীরে ধীরে পুরো এলাকায় নাম
কাশীপুরের ভানু মাস্টার আমি
কত দিবস-যামি
কচি নাক মুখ চপল সোনাদের নিয়ে
খুঁজে চলি জীবন, জীবনের নায়ে।

বাবা-র ভর সঞ্চয় হয়েছে, আমারও কষ্ট হয়নি
লেখাপড়া চালিয়েছি, যেমন প্রসারিত স্বপ্নখানি।
বন্ধুবান্ধব, পাড়াপ্রতিবেশি, পরিচিত যত আমার
সবাই এগিয়ে
পিছিয়ে থাকি কীভাবে আর?
সামনের দিকে চলেছি,
চালিয়ে টিউটর
আমি দেখি ক্রমে স্টুডেন্ট লাখের ভিতর।

এপাড়ার, কখনো ওপাড়ার ছেলেপুলে বলে-
আপনার আশির্বাদে ধরেছি স্বপ্নগুলো মেলে।
মনের আনন্দে বিমোহিত ওরাই আমার সন্তান
গর্ভে ধরিলেই কী বাবা-মা হয়?
দেখলেন প্রমাণ?

কে স্যার বললো? কে বললো ম্যাম?
সে হিসেব নাহয়, মাথায় না নিলেম।
স্যার ডাকতে পারে। এটা বিষয় না
জন্মদাতার বড়ো দায়িত্ব আমার না?
তার জবাব নিশ্চয়ই দিয়ে দিবে সমাজ
যেহেতু শিক্ষা লেনদেনে করি মানুষ গড়ার কাজ।

আমি- চুয়াত্তর, কি’বা লবণ মিছিল দেখিনি
শুনেছি, জনে-জনে ইতিহাসের এই কাহিনি।
তবে বাবা-র মুখ ও জীবনযুদ্ধ, ক্রমে ক্রমে
আমাকে শিখিয়ে দিল, সবুজের ফ্রেমে
কিভাবে জায়গা নিতে হয়?
লিখতে হয়, পৃথিবীর পরে স্বীয় পরিচয়।

হাতে মিষ্টি। একদিন এক ছেলে এসে বললো-
ম্যাম, আপনার আশির্বাদ, জীবন সজীব হলো।
কীভাবে? প্রশ্ন করলাম
সে হেসে বলে-
বাবা সন্তান জন্ম দিল, মানুষ করে তুলে
জজ হতে করলেন আমাকে সহায়তা
বাবার থেকে কম কিসে আপনার বারতা?

হাসি পেল আমার, তাঁকে বসতে দিলাম
বললাম- মনে রেখেছ, ধন্যবাদ
এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন অবিরাম
ভানু মাস্টারের মতো কতো শতো রাম
পাড়ায়, অলিগলি ধুকধুকে বাঁচে প্রাণ
আর আমি! কখনো বাদশা’র গলিচাঁন
হীরামতি, কখনো সরদার বাড়ির পরে স্কুল
শিক্ষা লেনদেন করে ফুটিয়েছি ফুল।
তারমধ্যে কবে কার তুমি এসে দিলে মালা
আশির্বাদ করি-
“জীবনঝুঁড়ি হো’ক পূজার ডালা।”

পায়ে হেঁটে শিক্ষাদান করা সেই ভানু মাস্টার
প্রমোশন পেল শেষে দু’থেকে আড়াইহাজার।
কিন্তু
তোমাদের মতো যে ফুল আমি ফুটিয়ে গেলাম
তাতেই সুখ,
পৃথিবীর পরে আর পৃথিবীর তরে
এই ভানু মাস্টার ররে সজীবতার নীড়ে।

 

 
RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular