নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার কান্দানিয়া গ্রামে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. শওকত ইকবালের নির্মাণাধীন ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও জায়গা জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ । এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন প্রকাশ্য দিবালোকে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কান্দানিয়া গ্রামে অবস্থিত মো. শওকত ইকবালের নির্মাণাধীন ভবনের জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তরের উপরে থাকা লোহার রড মেশিনের সাহায্যে কেটে নিয়ে যায়, এ সময় দুবৃত্তরা জমির সীমানা বেষ্টনী হিসেবে নির্মিত টিনের বেড়া ও পিলার ভেঙে ফেলে । তারা ৫০ বস্তা সিমেন্ট, বালি ও প্রায় ২ হাজার ইটও লুট করে নিয়ে যায়।
বর্তমানে মো: শওকত ইকবাল কর্তৃক নিয়োজিত আমমোক্তার হিসেবে মো: কবির হোসেন জায়গার তত্ত্বাবধান করছেন। ঘটনার দিন কবির হোসেনকে ডেকে নিয়ে চক্রটি ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। কিন্তু কবির হোসেন চাঁদা প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে মো: সাইফুল ইসলাম ও এমকেএম ফজলুল হক তাকে গলা টিপে ধরে এবং শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে তার বৃদ্ধা মা, ছেলেকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে তাকে সাইফুল ইসলাম ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় । পুরো ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো: শফিকুল ইসলাম দুলাল মিয়া, মো: হাতেম আলী, মো: ফাহাদ মিয়া, মো: সাদ্দাম হোসেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় একেএম ফজলুল হক ওরফে ফজলু মাস্টার এবং সাইফুল ইসলাম, আব্দুল জলিল, আব্দুল বারেক, বুলবুল আহমেদ, আবুল কালাম, আলাউদ্দিন এবং শুক্কুর আলী ওরফে শুক্কুসহ আরও কয়েকজন অংশ নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থলের জমিটি প্রায় এক শতাব্দী ধরে মো. শওকত ইকবালের পরিবার ভোগদখল করে আসছে। পরিবারটির দাবি, এটি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি, যা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১ জুন নিবন্ধিত সাফ কাবলা দলিলের মাধ্যমে মো. শওকত ইকবাল তার মা আনোয়ারা বেগম ও দুই ভাই মো. কবির হোসেন এবং মো. ফকরুল ইসলামের কাছ থেকে জমির মালিকানা অর্জন করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, পৈত্রিক সম্পত্তি হওয়ায় ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সেখানে ভবন নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। তবে সম্প্রতি সংঘটিত হামলার ঘটনায় নির্মাণকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জমি জবরদখলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।হামলার পর অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছে। ফলে পরিবারের সদস্যরা চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমিটির মালিকানা ও দীর্ঘদিনের ভোগদখল নিয়ে এলাকায় সাধারণভাবে কোনো বিরোধের কথা আগে শোনা যায়নি। তবে সাম্প্রতিক এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীর আমমোক্তার হিসেবে নিয়োজিত মো. কবির হোসেন অভিযোগ করেন, “আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে নির্মাণকাজ চলাকালে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে নির্মাণসামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে এবং জায়গা দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।




